২১ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে জ্যামাইকার সেন্ট অ্যান্ড্রু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘকায় গড়ন ও আমুদে প্রকৃতির অধিকারী ছিলেন। দারুণ উইকেট-রক্ষক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই তাঁকে সহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। উইকেটের পিছনে অবস্থান করে বেশ নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন। এছাড়াও, নিজের উইকেটের মূল্যায়ণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে জেরি আলেকজান্ডারের সহকারী হিসেবে নরি কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চার্লি স্টেয়ার্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ভাঙ্গা আঙ্গুল নিয়েও অভিষেক ইনিংসেই মনোরম অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৪ রান সংগ্রহসহ খেলায় একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তবে, আঘাতের কারণের পরের টেস্ট খেলা থেকে বঞ্চিত হন। ডেরিক মারে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। দুই বছর পর পরবর্তী টেস্ট খেলার সুযোগ পান। তিন খেলায় অংশ নেন। কিন্তু, আবারও দূর্ভাগ্য তাঁর পিছু পিছু চলে আসে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিজটাউন টেস্টে গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জি’র বাউন্সারে মুখে আঘাত পান। কিছু সময় জীবন হুমকির মুখে পড়ে।
১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৬৯ সালে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১২ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে ৪৪৭ রান সংগ্রহসহ ৪২ ক্যাচ ও পাঁচটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৫৬৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১৪০ ক্যাচ ও ৫০ স্ট্যাম্পিং ঘটিয়েছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনসহ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি হিসেবে ১৯ টেস্ট ও ২৬টি ওডিআই পরিচালনা করেন। ২০ নভেম্বর, ২০০০ সালে ঐতিহাসিক প্রথম টাই টেস্টের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জেরি আলেকজান্ডার, ল্যান্স গিবস ও চেস্টার ওয়াটসনের সাথে ব্রিসবেনে মিলিত হন। ৪ জুলাই, ২০১৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে ডব্লিউআইসিবি আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। এক পর্যায়ে জ্যামাইকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিচালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
