| |

হরবিন্দর সিং

২৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কিশোর বয়সে অত্যন্ত প্রতিভাবান মিডিয়াম পেসার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে কানপুরে এ স্তরের ক্রিকেটে তরুণ মার্ক বাউচারের উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে পাঞ্জাব ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পাঞ্জাব ও রেলওয়ে দলের পক্ষে বল হাতে নিয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। পেস সহযোগে অনেক সময়ই ব্যাটসম্যানদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলতেন। এছাড়াও, বলে বাঁক আনয়ণেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সার্ক কোয়াড্রাঙ্গুলার প্রতিযোগিতায় পেসার হিসেবে নিজেকে প্রথম উপস্থাপন করতে সচেষ্ট হন। ১০.৯৯ গড়ে ১২ উইকেটের সন্ধান পান। ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৬/৪৩ লাভের পর স্বাগতিক বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৪/৪৪ পান। দুটো খেলাতেই দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

১৯৯৭ থেকে ২০০১ সময়কালে সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ষোলোটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে, খেলাগুলোয় তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে টরন্টোয় অনুষ্ঠিত সাহারা কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। প্রথম খেলায় তিন উইকেট নিয়ে দলে অন্তর্ভুক্তিকে স্বার্থক করে তুলেন। ক্রমশঃ বিপজ্জ্বনক হয়ে ওঠা শহীদ আফ্রিদি’র উইকেট পান। গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলোর সন্ধান পেলেও তাঁকে যথেষ্ট রান খরচ করতে হয়েছিল।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারতের টেস্ট দলে তাঁর ঠাঁই হয়। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তবে, মাত্র চার উইকেট লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ৬ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথমবার বোলিংয়ে নেমে অজি অধিনায়ককে বিদেয় করেছিলেন। ১/২৮ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শচীন তেন্ডুলকরের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭৯ রানে জয় পায়।

ব্যাঙ্গালোরের তৃতীয় টেস্টে মাইকেল স্ল্যাটারের উইকেট পান। ওডিআই ও টেস্টে ব্যাপকসংখ্যক রান খরচ করেন। টেস্টে ওভারপ্রতি ৪.০৬ এবং ওডিআইয়ে ৫.৩২ গড়ে রান দেন। ওডিআইয়ে প্রতি ২৮ বল থেকে উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। আর তাঁকে দীর্ঘ সংস্করণের কোন খেলায় রাখা হয়নি।

২০০১-০২ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২২ আগস্ট, ২০০১ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২/৬২ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে জয় পেয়ে সিরিজে সমতায় আসে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০১ সাল পর্যন্ত ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন। পিঠের আঘাতই তাঁর খেলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হবার পর রেলওয়ে দলে চলে যান। ২০০৫ সাল থেকে তাঁর খেলায় ছন্দপতন লক্ষ্য করা যায়। তাসত্ত্বেও, ২০০৮ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা চলমান রাখেন। ৩১ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর গ্রহণের পর রেলওয়ে দলের কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

Similar Posts

  • |

    ওয়াশিংটন সুন্দর

    ৫ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিং করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার মধ্য দিয়ে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের উত্তরণ ঘটতে থাকে। পিতা এম সুন্দর তামিলনাড়ুর রঞ্জী ট্রফি দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটার ছিলেন। তবে, চূড়ান্ত দলে ঠাঁই পাননি। এম…

  • |

    টিচ কর্নফোর্ড

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯০০ তারিখে সাসেক্সের হার্স্ট গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। উইকেটের পিছনে অবস্থান সকল ধরনের বোলিং সামলাতেন। অন্তরঙ্গ বন্ধু এম. ডব্লিউ. টেটের ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং ও এ. ই. আর. জিলিগানের বল থেকে স্ট্যাম্পিং করে তাঁদেরকে অনেকগুলো উইকেট লাভে পরোক্ষ…

  • |

    আব্দুল রাজ্জাক

    ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রথিতযশা ও শক্তিধর অল-রাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবনে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে সুনাম কুড়িয়েছেন। বলকে সীমানা পাড় করতে তৎপরতা দেখাতেন। তবে, শেষেরদিকের…

  • | |

    মার্ক ডেকার

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের গাটুমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খাঁটিমানসম্পন্ন শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ও কভার অঞ্চলে চমৎকার ফিল্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ…

  • | |

    মুদাসসর নজর

    ৬ এপ্রিল, ১৯৫৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেস্টে খাঁটিমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও ওডিআইয়ে দূর্দান্ত অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অপরিসীম ধৈর্য্য ও ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী থেকে খেলায় বিরাট ভূমিকা রেখে গেছেন।…

  • |

    উইলি ওয়াটসন, ১৯৬৫

    ৩১ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অন্যতম মিতব্যয়ী বোলার হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। স্ট্যাম্প বরাবর নিখুঁততার সাথে বোলিং করে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে ‘ডিবলি ডবলি পেসার্স’ ডাকনামে আখ্যায়িত ক্রিস হ্যারিস ও…