| |

ভরত অরুণ

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬২ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়াবাদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর মারকুটে ব্যাটিং করতে পারতেন। আশির দশকে বেশ কয়েকজন উদীয়মান খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে কপিল দেবের যোগ্য উদ্বোধনী বোলার হিসেবে খেলেছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০ বছর বয়সে তামিলনাড়ুর পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চমৎকার রেকর্ড রয়েছে। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ী তামিলনাড়ু দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। সফররত শ্রীলঙ্কা একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় দূর্দান্ত খেলা উপহার দিলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা কুড়ান। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে জাতীয় দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত উভয় টেস্টই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে রমন লাম্বা’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কপিল দেবের সাথে বোলিং উদ্বোধনের জন্যে রাখা হয়। কিন্তু, দূর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাটিং উপযোগী পিচে তেমন সফলতা পাননি। ৩/৭৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

পরের টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়নি। ৪ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে কটকে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টেও ভালোমানের বোলিং করতে পারেননি। ১/২৬ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দিলীপ বেঙ্গসরকারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৬৭ রান জয় তুলে নেয়। এরপর, আর তাঁকে টেস্টে রাখা হয়নি। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে কানপুরে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। তবে, তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তামিলনাড়ু দলের পক্ষে খেলা চালিয়ে যান। দিলীপ ট্রফি প্রতিযোগিতায় অন্যতম সেরা খেলা উপহার দিয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের সদস্যরূপে পশ্চিমাঞ্চলের বিপক্ষে ১৪৯ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে ডব্লিউভি রমনের সাথে সপ্তম উইকেটে ২২১ রানের জুটি গড়েন।

২০০২ সাল থেকে রঞ্জী ট্রফির দল তামিলনাড়ুর পক্ষে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ দলের দায়িত্বে থাকেন। এ সময়ে দলকে দুইবার রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। বাংলা দলকেও প্রশিক্ষণ দেন। কয়েক বছর ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির প্রধান বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। এরপর, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ২০১২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ী ভারত দলকে পরিচালনা করেন। আইপিএলের সপ্তম আসরে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেন। এরপর, ২০১৪ সালে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হিসেবে নামাঙ্কিত হন। ইংল্যান্ড সফরে ভারতের ওডিআই দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Similar Posts

  • | |

    লঙ্কা ডি সিলভা

    ২৯ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে কুরুনেগালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির উচ্চতার অধিকারী। এরফলে, ক্ষুদ্র কাঁধের অধিকারী ছিলেন। কুরুনেগালাভিত্তিক সেন্ট অ্যানেস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • | |

    উইয়ান মুল্ডার

    ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে গটেংয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করে চলছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘উইয়ান’ ডাকনামে পরিচিত। সেন্ট স্টিথিয়ান্সে অধ্যয়ন করেছেন। কলেজে অধ্যয়নকালে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। কিশোর অবস্থায় যুবদের ক্রিকেটে অংশ…

  • | |

    পেলহাম ওয়ার্নার

    ২ অক্টোবর, ১৮৭৩ তারিখে ত্রিনিদাদের দ্য হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক, সাংবাদিক ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। চার্লস উইলিয়াম ওয়ার্নার, সিবি ও দ্বিতীয় পত্নী এলেন রোজা দম্পতির আঠারো সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। পিতা অনেকগুলো বছর…

  • |

    গোগুমাল কিষেনচাঁদ

    ১৪ এপ্রিল, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদা, গুজরাত, সিন্ধু ও…

  • |

    হনুমা বিহারী

    ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা কাকিন্দায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ধ্রুপদীশৈলীর সঠিকমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান তিনি। পূব বাতাসের ন্যায় স্থিরচিত্তে খেলে থাকেন। অত্যন্ত স্থির প্রকৃতির ভিভিএস লক্ষ্মণের ন্যায় তাঁর উত্থানপর্বও বেশ ধীরলয়ে ঘটে। তবে, উত্তরণের বিষয়ে অগোচরে ছিল না। ২০১০ সাল…

  • |

    উমেশ কুলকার্নি

    ৭ মার্চ, ১৯৪২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের আলীবাগে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। খুব স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়কেই তাঁর ন্যায় তরতর করে উপরের দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তবে, কোন দিক দিয়ে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন সুখকর…