|

হর্ষিত রাণা

২২ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত দিল্লি বনাম আসামের মধ্যকার অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

আধুনিককালে আইপিএলে খেলার পর ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাওয়াদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কলকাতা নাইট রাইডার্সের খেলোয়াড় অনুসন্ধানের সূত্র ধরে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। উচ্চতা, পেস, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও বলে ভিন্নতা আনয়ণে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। আইপিএলে কেকেআরের শিরোপা বিজয়ের পর জুলাই, ২০২৪ সালে ভারত দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান।

২০ বছর বয়সে থাকাকালে দিল্লি থেকে আগত নীতিশ রাণা’র পরামর্শক্রমে কেকেআর কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে আঘাতগ্রস্ত রসিখ সালামের পরিবর্তে তাঁকে দলে যুক্ত করে। ঐ বছরের শেষদিকে তিনি প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসহ লিস্ট-এ ক্রিকেটে অংশ নেন। লাল-বলের ক্রিকেটে স্বীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ঐ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর রঞ্জি ট্রফিতে পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে ২১ উইকেট দখল করেন।

জুন, ২০২৩ সালে দিলীপ ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। উত্তরাঞ্চলের পক্ষে ব্যাট হাতে নিয়েও সমান দক্ষতা প্রদর্শনে অগ্রসর হন। নয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে নয়টি ছক্কা সহযোগে ৮৬ বল থেকে ১২২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, এসিসি এমার্জিং মেন্স কাপে ভারত ‘এ’ দলের সদস্য ছিলেন। বোলিং উদ্বোধন করে পাঁচ খেলা থেকে সাত উইকেট দখল করেন। স্পষ্টতঃই ভারত দলে খেলার সুযোগ সময়ের ব্যাপার ছিল। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ভারত ‘এ’ দলের পক্ষে সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান।

২০২৩ সালে দূর্দান্ত খেলার পর ২০২৪ সালের আইপিএল ট্রফিতে খেলেন। কেকেআরের পক্ষে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও সর্বোপরী প্রতিযোগিতায় চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হন। ১৯ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, তিন ইনিংসে শেষের ওভারগুলোয় ৯.৮৫ রান খরচ করে বড় ধরনের রানের খেলায় মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখেন।

২০২৪ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আই খেলছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২২ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। নীতিশ কুমার রেড্ডি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৪৮ ও ১/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ২৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দিবা-রাত্রির ঐ টেস্টে বল হাতে নিয়ে ০/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, ট্রাভিস হেডের (১৪০) অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

Similar Posts

  • |

    হ্যারি ব্রোমফিল্ড

    ২৬ জুন, ১৯৩২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের মোসেল বেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    ভুবনেশ্বর কুমার

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মীরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সাব-ইন্সপেক্টর পিতা কিরণ পাল সিং ও ইন্দ্রেস সিং দম্পতির সন্তান। জ্যেষ্ঠ ভগ্নী রেখা আধানা’র উদ্দীপনায় ক্রিকেট খেলতে অগ্রসর হন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    রঞ্জন দাস

    ১৪ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১২ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেছেন। ‘রানা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    মার্ক বুচার

    ২৩ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে সারের ক্রয়ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘বুচ’ কিংবা ‘ব্যাজ’ ডাকনামে পরিচিত মার্ক বুচার ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ক্রয়ডনভিত্তিক ট্রিনিটি স্কুল ও আর্চবিশপ টেনিসন্সে অধ্যয়ন করেছেন। মাতা এলেন জ্যামাইকীয় ও…

  • |

    মাইক ম্যাকাউলি

    ১৯ এপ্রিল, ১৯৩৯ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভ্রমণপ্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে সম্যক পরিচিতি পান। পাঁচটি রাজ্য দলের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে…

  • | |

    রেগ সিনফিল্ড

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৯০০ তারিখে হার্টফোর্ডশায়ারের বেনিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে স্লো বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হার্টফোর্ডশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এ পর্যায়ে মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে নিয়মিতভাবে রান সংগ্রহকারী সি. এইচ. টিচমার্শের ব্যাটিংশৈলী থেকে অনেককিছু শিখেন। ১৯২১ সালে…