|

সায়মন হারমার

১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়ারিয়র্স, বর্ডার ও ইস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন। ৫ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন প্রভিন্স বনাম গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম ইনিংসে ৫/৯৮ লাভসহ ৪৬ রান সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১/৫৩ ও ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। খুব শীঘ্রই দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত হন ও প্রথম মৌসুমেই পূর্ণাঙ্গ সময়ের জন্যে খেলার সুযোগ পান। ২০১১-১২ মৌসুমে ৪৪ উইকেট দখল করেন। এ সংখ্যাটি যে-কোন বোলারের চেয়ে অধিক ছিল। খেলার এ ধারা অব্যাহত রাখতে থাকেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে দিনেশ রামদিনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ডেভন স্মিথকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি ৩/৭১ ও ৪/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পায়। ঐ সিরিজে দলীয় অধিনায়ক হাশিম আমলা’র দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীতে তাঁর দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল। ১৫৩ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে জুলাই, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ গমনার্থে দলে স্বীয় স্থান করায়ত্ত্ব করেন।

ভারত সফরেও তাঁকে রাখা হয়। তবে, এক পর্যায়ে প্রোটীয়দের পক্ষে এটিই তাঁর শেষ টেস্ট সিরিজে পরিণত হয়েছিল। নাগপুরে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেন। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটসহ খেলায় পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, খুব সম্ভবতঃ দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর কাছ থেকে আরও অধিক প্রত্যাশা করেছিলেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ডেন পাইতকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

ঐ সিরিজের পর তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সফর থেকেও বঞ্চিত করে। এরফলে, অক্টোবর, ২০১৬ সালে কোলপ্যাক খেলোয়াড় হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে এসেক্সের পক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। কাউন্টি ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে তৎপর হন। অন্যতম সদস্যরূপে দলকে ২৫ বছর পর কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ঐ মৌসুমে ১৯.১৯ গড়ে ৭২ উইকেট দখল করেন। কেবলমাত্র জেমি পোর্টার ৭৫ উইকেট নিয়ে তাঁর তুলনায় এগিয়েছিলেন।

২০১৯ সালে এসেক্সের পক্ষে ৮৩ উইকেটের সন্ধান পান ও চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। এ পর্যায়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে, ব্রেক্সিটের কারণে ও কোলপ্যাক নিয়ম শেষ হলে এ আশা হাতছাড়া হয়। এরপর, বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবে খেলতে থাকেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে টাইটান্সের পক্ষে চুক্তিবদ্ধ হন।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৮* ও ১১ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১০৩ ও ৩/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২২ সালে দীর্ঘ সাত বছর পর নিউজিল্যান্ড গমনার্থে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে যুক্ত হন। জর্জ লিন্ডে’র অনুপস্থিতিজনিত শূন্যতা পূরণে এ সুযোগ পান।

২০২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৪ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। উসমান খাজা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ মার্চ, ২০২৩ তারিখে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২/৬৩ ও ৩/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা’র অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৮৪ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২২ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৬৪ ও ৬/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মার্কো জানসেনের দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ১৭ উইকেট দখল করে তিনি ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

Similar Posts