| |

অ্যান্ড্রু গ্রীনউড

২০ আগস্ট, ১৮৪৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের কাউমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

লড়াকু মানসিকতার অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৬৯ থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সঙ্কুচিত অবস্থায় সাহসী ব্যাটসম্যান হিসেবে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে পেশাদারী পর্যায়ে কাকা লুক গ্রীনউডের অধিনায়কত্বে খেলায় অংশ নিতেন। ১১ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে ৪৩০৭ রান তুলেছেন।

১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সফরেই টেস্টগুলো খেলেন। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে খেলার গৌরব অর্জন করেন। তবে, ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম টেস্টে খুব কমই সফল হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৫ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

কিন্তু, একই সফরের ৩১ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে উভয় ইনিংসেই দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ৪৯ ও ২২ রান তুলেছিলেন। ঐ খেলায় সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এ সফরের কয়েক মাস পূর্বে ইউনাইটেড নর্থের সদস্যরূপে ডব্লিউজি গ্রেস, জেমস লিলিহোয়াইট, ফ্রেড গ্রেসসমৃদ্ধ বোলারদের বিপক্ষে ১১১ রান তুলেছিলেন। এরপূর্বে ১৮৭১ সালে গোলাপের খেলায় অপরাজিত ২১ ও ৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে ১৮৭৪ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলায় নিজের স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। ইয়র্কশায়ার ৮৭ ও ১৫১ রান তুললেও তিনি ৩৪ ও ৭৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

১৮৭৫ সালে নর্থের সদস্যরূপে সাউথের বিপক্ষে দল ১৫৫ ও ২৮৮ রান সংগ্রহ করলে তিনি ৩৯ ও ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন। এক মাস পর আবারও ইয়র্কশায়ারের ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। দলের ১৮৫ ও ৭৫/৬ রান সংগ্রহের খেলায় তিনি ৬১ ও অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস খেলেন। ঐ খেলায় সারের বিপক্ষে ইয়র্কশায়ার ৪ উইকেটে জয় পায়।

১৮৮০ ও ১৮৮৪ সালে অস্ট্রেলিয়া দল ইংল্যান্ড সফরে আসলে প্রস্তুতিমূলক খেলাগুলোয়া আম্পায়ারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৯ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হাডার্সফিল্ড এলাকায় মাত্র ৪১ বছর ১৭৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    এরিক টিন্ডিল

    ১৮ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে নেলসনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, আম্পায়ার, প্রশাসক ও দল নির্বাচক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের সাতজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে ক্রিকেট ও রাগবি – উভয় ধরনের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করেছেন। ‘স্নোয়ি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন ব্যাহত হয়। খেলাধূলায় কি করেননি তিনি!…

  • |

    উজেশ রণচোড

    ১৭ মে, ১৯৬৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। সব মিলিয়ে ২৩টি…

  • | |

    গ্রায়েম হোল

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কনকর্ড ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৩ বছর বয়সে মোসম্যানের পক্ষে ক্রিকেট খেলতেন। এরপর, নর্থ সিডনি বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন…

  • ইনোসেন্ট কাইয়া

    ১০ আগস্ট, ১৯৯২ হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাউন্টেনিয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে মাসভিঙ্গোয় অনুষ্ঠিত রক্স বনাম…

  • | |

    উইলফ্রেড রোডস

    ২৯ অক্টোবর, ১৮৭৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের নর্থ মুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউরোপিয়ান্স (ভারত) ও পাতিয়ালার মহারাজা একাদশের সদস্যরূপে খেলেছেন। ১৮৯৮ থেকে ১৯৩০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    ডেনিস ডায়ার

    ২ মে, ১৯১৪ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘাকায় গড়ন ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী হিসেবে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। তবে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টা…