| |

জ্যাক ব্ল্যাকহাম

১১ মে, ১৮৫৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ‘উইকেট-রক্ষকদের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঊনবিংশ শতকের শুরুরদিকে ক্রিকেটকে মহীয়ান করে গেছেন। দূর্দান্তভাবে ও দক্ষতার সাথে উইকেট-রক্ষণ সামলিয়েছেন। এমনকি ফাস্ট বোলারদের বলগুলোও স্ট্যাম্পের পিছনে দাঁড়িয়ে গ্লাভসবন্দী করেছেন। তবে, ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, খুব সহজে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিতেন না ও প্রতিপক্ষীয় বোলারদেরকে হতাশায় নিপতিত করতেন। প্রায় দুই দশক অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছিলেন।

১৮৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৮৭৭ থেকে ১৮৯৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৫ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বপ্রথম টেস্টে অংশ গ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার গৌরব অর্জন করেন। এরফলে, টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। খেলায় তিনি ১৭ ও ৬ রান তুলেছিলেন। পাশাপাশি, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৫ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৮৭৮ সাল থেকে ১৮৯৩ সালের মধ্যে আটবার অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। কেবলমাত্র সিড গ্রিগরি তাঁর এ রেকর্ডের সমকক্ষ হন। অনেক আঘাত সহ্য করেও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ৩৯ টেস্টের মধ্যে কেবলমাত্র চার টেস্টে অনুপস্থিত ছিলেন। তন্মধ্যে, প্রবেশপথে অর্থসংক্রান্ত বিষয়ে মতবিরোধের জের ধরে ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে তিন টেস্ট খেলেননি। ১৮৯০ সালের সফরে ৬৫ ব্যাটসম্যানকে ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। ৩৮টি কট ও ২৭টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে যুক্ত রাখেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলীয় রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে।

১৮৯১-৯২ মৌসুমের শীতকালে সিডনিতে ডব্লিউ. জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন লর্ড শেফিল্ড দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৮৯২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৮৯৩ সালে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০* ও ২৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে খেলা রক্ষায় অগ্রসরমান অবস্থায় চার্লি টার্নার হাতে আঘাত পান ও আঙ্গুলের জোড়া ছুঁটে গেলে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ড. গ্রেস আঙ্গুলের জোড়া ঠিক করে দেন। পরবর্তীতে, শেষ উইকেটে টার্নারের সাথে ৩৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়ার সময় ক্ষেপণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৭৪ ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে টম ক্যান্ডলের বলে আলফ্রেড শ’কে প্রথম স্ট্যাম্পিং করেন। উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল নাটকীয়ভাবে ১০ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে আট টেস্টে দলের অধিনায়কত্ব করে প্রথম তিনটিতে তাঁর দল জয় পায়, তিনটিতে পরাজিত হয় ও দুইটি খেলা ড্রয়ে পরিণত হয়। ১৯১২ সালে ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ তাঁর সম্মানার্থে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার আয়োজন করে। ১৯০৯ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের আজীবন সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত প্রথম দশজনের অন্যতম ছিলেন।

ক্রিকেটের বাইরে অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল খেলতেন। ১৮৮০-এর দশকে ভিক্টোরিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে ফিটজরয় ফুটবল ক্লাবে খেলতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে অকৃতদার ছিলেন। ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফ্লিন্ডার্স লেন এলাকায় ৭৮ বছর ২৩১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যানন আর্নেস্ট হিউজ সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে শবানুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

Similar Posts

  • |

    নাসির জামশেদ

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতি ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী আগ্রাসী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অবস্থান সুদৃঢ়করণে দীর্ঘদিনের আশাবাদ পূরণে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। সাঈদ আনোয়ার ও ম্যাথু হেইডেনকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ব্যাটিংয়ের ধরন অনেকাংশেই তাঁদের…

  • |

    জাকির খান

    ৩ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বান্নু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় ও শক্তি-মজবুত গড়নের অধিকারী। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে শুরু করে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী…

  • | |

    মোহাম্মদ হাফিজ

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের সারগোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। পাকিস্তান দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেয়াসহ অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সচরাচর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কৌশলগতভাবে প্রয়োজনমাফিক রক্ষণাত্মক ঢংয়েও অগ্রসর হয়ে থাকেন। পাকিস্তান দলের অন্যতম অনুসঙ্গ তিনি। বেশ কয়েকবার বোলিং…

  • |

    জিয়া-উর-রেহমান

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে খোস্তে জন্মগ্রহণকারী আফগান ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অ্যামো রিজিওন, মিস আইনাক নাইটস, বুস্ট ডিফেন্ডার্স, কাবুল ঈগলস, মাইওয়ান্দ ডিফেন্ডার্স, হিন্দুকুশ স্ট্রাইকার্স, পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স,…

  • |

    কাইল অ্যাবট

    ১৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে কোয়াজুলু-নাটালের এম্পাঙ্গেনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিয়ার্সনি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘদেহী ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। পেস ও বলে গতি সঞ্চারণে বেশ সক্ষম ছিলেন ও…

  • |

    খালিদ ওয়াজির

    ২৭ এপ্রিল, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী ও মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। আগ্রাসী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডার হিসেবেও…