|

ফ্রেড গ্রেস

১৩ ডিসেম্বর, ১৮৫০ তারিখে ব্রিস্টলে ডাউনএন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রতিভাবান খেলোয়াড় ছিলেন সন্দেহ নেই। তবে, ইএম গ্রেস ও ডব্লিউজি গ্রেসের ন্যায় ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী ছিলেন না। গ্রেস ভ্রাতাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৬৬ থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯ বছর বয়সে সাউথ জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে নর্থ জেন্টলম্যানের বিপক্ষে ১৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, বড় ধরনের ইনিংস না খেলার জন্যে সমালোচনার পাত্রে পরিণত হলেও ক্রমাগত প্রিয় স্ট্রোকগুলো খেলে যাচ্ছিলেন। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১৬৫ ও সারের বিপক্ষে অপরাজিত ১৮০ রান তাঁর সেরা ইনিংসগুলোর অন্যতম ছিল। বল হাতে নিয়েও সফলতা পান। ১৮৭৬ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নর্থে বিপক্ষে ৮/৬৭ পেয়েছিলেন।

১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে লন্ডনের ওভালে পনেরোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ডব্লিউজি ও ইএমের সাথে একত্রে খেলেন। এরফলে, প্রথম ঘটনা হিসেবে একই টেস্টে তিন ভাইয়ের একত্রে অংশগ্রহণের ঘটনা ঘটে। তবে, উভয় ইনিংস থেকে রান শূন্য অবস্থায় থাকেন ও বোলিং করার সুযোগ পাননি। জর্জ বোনরের ক্যাচ অসাধারণভাবে তালুবন্দী করেছিলেন। তাসত্ত্বেও ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ছয় বছর পর বারক্লেজ বুক অব ক্রিকেটে ‘ডিপ ফিল্ড অঞ্চলে ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা ক্যাচ’ হিসেবে তাঁর কথা উল্লেখ করে। টেস্টের তুলনায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ ভালো অবস্থানে ছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে নিজের সেরা দিনগুলো ফেলে এসেছিলেন। ডব্লিউজি’র সমান ছিলেন না। তবে, গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলার পাশাপাশি ডব্লিউজি’র সাউথ জেন্টলম্যানের পক্ষে দারুণ খেলতেন। সাধারণমানের ক্রিকেটার ছিলেন না। উইজডেনে তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করা হয় যে, ‘দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন, বিস্ময়কর ব্যাটিং করতেন, সময়ে সময়ে তিনি বোলার হিসেবে খুব সফলতার স্বাক্ষর রাখতেন ও মাঠে অন্যতম জনপ্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন।’ সম্ভবতঃ তিনি ভ্রাতাদের মধ্যে সেরা ফিল্ডিং করতেন।

সব মিলিয়ে ১৯৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৫ গড়ে ৬৯০৬ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ২০ গড়ে ৩২৯ উইকেট দখল করেছিলেন। টেস্টে অংশগ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহ পরই ২২ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের ব্যাসিংস্টোক এলাকায় সর্দিজ্বরে ভুগে মাত্র ২৯ বছর ২৮৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    ক্রিস মার্টিন

    ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলে পেস বোলিং করতেন ও সিম আনয়ণে ব্যাটসম্যানের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার কারণেও তিনি সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।…

  • |

    কাভেম হজ

    ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে ডোমিনিকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ২০১২ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলেছেন। একই বছর উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের পক্ষে প্রথমবারের…

  • |

    কৌশল লোকুয়ারাচ্চি

    ২০ মে, ১৯৮২ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘লোকু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। সেন্ট পিটার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দিলরুয়ান পেরেরা’র ন্যায় তিনিও রুয়ান কালপেগের পরিচালনায় শ্রীলঙ্কান স্পিন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে…

  • |

    ব্যারি মিলবার্ন

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনের মাওরি হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিনটি…

  • | |

    এল্টন চিগুম্বুরা

    ১৪ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মারকুটে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম-পেস বোলিং করতে পারেন ও স্ট্যাম্প বরাবর আক্রমণাত্মক ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করেন। সীমানা…

  • | |

    স্যাম স্ট্যাপলস

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৮৯২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের নিউস্টিড কোলিয়ারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তরুণ অবস্থায় স্থানীয় কয়লা শ্রমিকদের সাথে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। কিছুটা স্লো-মিডিয়াম পেস ধরনের বোলিং করতেন। তবে, দ্রুততার সাথে…