|

বিলি নিউহাম

১২ ডিসেম্বর, ১৮৬০ তারিখে শ্রপশায়ারের হলি ক্রস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

আর্ডিংলিতে পড়াশুনো করেছেন। ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত ঐ কলেজে শিক্ষকতা করেন। সর্বক্রীড়ায় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮১ থেকে ১৯০৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ রুখে দাঁড়াতেন। নিপুণতার সাথে ড্রাইভ ও কাটের মারে দক্ষ ছিলেন। লেগের দিকে স্ট্রোক খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। সাসেক্সের অন্যতম শীর্ষ ব্যাটসম্যানের পরিচিতি পান। ১৮৮১ সালে কাউন্টিতে প্রথম অংশ নেয়ার পর ৬৩ বছর শৌখিন খেলোয়াড়, অধিনায়ক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে, কয়েক গ্রীষ্মে অন্যান্য কর্মে ব্যস্ত থাকায় খুব কমই খেলেছিলেন।

১৮৮২, ১৮৮৪ ও ১৮৮৯ সালে কাউন্টির ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে কেএস রঞ্জিতসিংজী ও সিবি ফ্রাইয়ের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যাটিং করতেন ও দলের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ১৮৯৪ সালে আর্থার মোল্ড ও জনি ব্রিগসের ন্যায় বোলারদের রুখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেন। দলের ১৭৪ রানের মধ্যে তিনি ১১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে এসে লেটনে রঞ্জী’র সাথে সপ্তম উইকেটে ৩৪৪ রানের জুটি গড়েন।

১৮৮৮ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে আলফ্রেড শ’ ও আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অ্যান্ড্রু স্টডার্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৭ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১২৬ রানে পরাভূত হয়।

টেস্ট ক্রিকেটে সুবিধে করতে না পারলেও প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ ভালোভাবে খেলেছিলেন। সাসেক্সের পক্ষে ২৪ গড়ে প্রায় পনেরো হাজার রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯০৫ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি ফুটবল খেলায় অংশ নিতেন। করিন্থিয়ান ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত সাসেক্সের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ১৯০৭ সালে কর্নেল ই. এ. ব্রুসকে সম্মানসূচক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। এ পর্যায়ে সহঃ সম্পাদক হিসেবে আমৃত্যু সাসেক্স ক্লাবে যুক্ত ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮৮৯ মৌসুমে সম্পাদক ও অধিনায়কের যৌথ দায়িত্বে থেকে ৩১ ইনিংসে ৩০.২০ গড়ে রান তুলেন ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন।

২৬ জুন, ১৯৪৪ তারিখে সাসেক্সের পোর্টস্লেড এলাকায় ৮৩ বছর ১৯৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    চেতন চৌহান

    ২১ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের বারিলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শ্রী নবরতন সিং চৌহানের সন্তান ছিলেন। মহারাষ্ট্রের পুণেভিত্তিক এ. ওয়াদিয়া কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং বি.এ., বি.কম ডিগ্রী লাভ করেন।…

  • | | |

    রাহুল দ্রাবিড়

    ১১ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণ কর্মে অগ্রসর হয়ে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেন্ট যোসেফস বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। খুব সম্ভবতঃ অন্যতম সর্বশেষ ধ্রুপদী মানসম্পন্ন…

  • |

    আলবার্ট প্যাডমোর

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে বার্বাডোসের হলস ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লিকলিকে গড়নের অধিকারী। তাঁর বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই ল্যান্স গিবসের অনুরূপ ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭২-৭৩…

  • | |

    সৈয়দ আবিদ আলী

    ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। পাশাপাশি অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন ও নিচেরসারিতে ব্যস্ততার সাথে উইকেটের প্রান্ত বদলে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিঠ সোজা রেখে, খাড়া গোঁফ নিয়ে সুনিয়ন্ত্রিত…

  • | |

    অ্যালান জোন্স

    ৪ নভেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে ওয়েলসের ভেলিন্দ্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও নর্দার্ন ট্রান্সভাল এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখেন।…

  • | | |

    ডেভিড সিনকক

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রেড ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছেন। প্রতিযোগিতার অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে ব্র্যাডম্যান পদক জয় করেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে টিচার্স কলেজ ও ১৯৮৩-৮৪…