|

জর্জ ফ্রান্সিস

১১ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে বার্বাডোসের ট্রেন্টস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জন্ম নিবন্ধন বহিতে তাঁকে ‘জন নাথানিয়েল ফ্রান্সিস’ নামে পরিচিতি ঘটানো হয়েছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত বার্বাডোসের পক্ষে খেলেছিলেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলিং ও ভীতিদায়ক ইয়র্কার করে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। মূলতঃ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

টেস্ট মর্যাদা লাভের পূর্বে ১৯২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক হ্যারল্ড অস্টিনের কারণে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। এ সফরের শেষ খেলায় নিজেকে বেশ মেলে ধরেছিলেন। স্কারবোরায় মাত্র ২৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত শক্তিধর লেভসন-গাওয়ার একাদশের বিপক্ষে ৬/১৯ লাভ করেছিলেন।

১৯৩০-এর দশকে সীহাম ক্রিকেট ক্লাবে খেলেছেন। এ পর্যায়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম গতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। নিজ দেশ বার্বাডোস থেকে সীহামে পৌঁছতে জাহাজ ও রেলগাড়ীতে ১০দিন ব্যয় করতে হয়। প্রথম মৌসুমেই দলকে ডারহাম সিনিয়র লীগের শিরোপা লাভের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে হুইবার্ন ও ডারহাম সিটির পর তৃতীয় অবস্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁর দলকে।

১৯২৮ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্টের ইতিহাসের প্রথম বোলিং করার গৌরব অর্জন করেন। ১৯২৮ সালে কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৯* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ২/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সফরে আসা ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মালিকপক্ষ একটিমাত্র টেস্ট খেলার জন্যে ছুটি মঞ্জুর করে। জর্জটাউনে ছয় উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।

১৯৩৩ সালে জ্যাকি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুন, ১৯৩৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৭ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনহারম্যান গ্রিফিথের সাথে পেস বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় অগ্রসর হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ২৩ উইকেট দখল করেন ও তিনবার চার-উইকেটের সন্ধান পান। নিয়মিতভাবে উইকেট লাভ করতে না পারলেও নিজের সেরা দিনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতেন। দ্রুতগতিতে বোলিংয়ের পাশাপাশি চমৎকারভাবে বলে নিয়ন্ত্রণ রাখতেন ও প্রায়শঃই ইয়র্কার মারতেন।

১২ জানুয়ারি, ১৯৪২ তারিখে বার্বাডোসের ব্ল্যাক রক এলাকায় মাত্র ৪৪ বছর ৩২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    কুমার ধর্মসেনা

    ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শনসহ ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলায় রুখে দাঁড়ানোয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। কলম্বোভিত্তিক নালন্দা কলেজে অধ্যয়নকালে ক্রিকেট খেলার সাথে জড়িয়ে পড়েন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে…

  • | | |

    ইয়ান চ্যাপেল

    ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার আনলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ফার্স্ট স্লিপ অঞ্চলে অবস্থান করে ফিল্ডিং করতেন। পাশাপাশি, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘চ্যাপেলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ভীতিহীন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি…

  • |

    ড্যারিল মিচেল

    ২০ মে, ১৯৯১ তারিখে হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘মুস’ কিংবা ‘ড্যাজ’ ডাকনামে পরিচিতি পান। নিউজিল্যান্ডের রাগবি ইউনিয়ন খেলোয়াড় ও কোচ জন মিচেলের সন্তান তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেককালীন ইংল্যান্ডের রাগবি ইউনিয়ন দলের কোচের দায়িত্বকালে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত…

  • |

    সনি রামাদিন

    ১ মে, ১৯২৯ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট চার্লস ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের অমূল্য অফ-স্পিনার ছিলেন। জন্মসনদে তাঁর নামের প্রথমাংশ ছিল না। কেবলই ‘বয়’ নামে পরিচিত ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, কেবলমাত্র ‘সনি’ ডাকনামে…

  • |

    উইল ইয়ং

    ২২ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে নিউ প্লাইমাউথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সচরাচর চার নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামেন। রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক – উভয় ধাঁচের খেলাতে অভ্যস্ত তিনি। ২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের…

  • |

    ম্যান্ডি মিচেল-ইন্স

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সেডবার্গে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেডবার্গে থাকাকালীন অসাধারণ বিদ্যালয় বালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। একবার তিনি অভ্যন্তরীণ খেলায় ৩০২…