৪ আগস্ট, ১৯৭৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কোন স্পিন কোচের শরণাপন্ন হওয়া ব্যতিরেকে খেলার জগতে প্রবেশ করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। ন্যাশনাল একাডেমিতে থাকাকালীন ক্লাইভ রাইসের সুনজরে পড়েন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাজ, ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ওয়ারিয়র্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট, ৭৯টি ওডিআই ও ২১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২২ বছর বয়সে ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, এরপর থেকে মাত্র কয়েকটি খেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন।
২০০৩ সালে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১ মে, ২০০৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের নজর কাড়েন। খেলায় তিনি ২/২২ ও ৩/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ রফিকের অসাধারণ বোলিং শৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই বছর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুলাই, ২০০৩ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৫৭ ও ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০৪-০৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ২০ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যান্ড্রু হলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১২-১৩ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২২ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে, ফাফ ডু প্লিসি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ৩০ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৪ ও ৩/১২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, হাশিম আমলা’র অনবদ্য শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৩০৯ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। বল হাতে নিয়ে ২/৯৪ ও ৩/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৮৪ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৪৯ ও ১/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ২১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মিচেল জনসনের অনবদ্য বোলিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ২৮১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দলে স্থান লাভের প্রশ্নে প্রায়শঃই ফাস্ট বোলারদের সাথে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হতো। তবে, যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই নিজেকে মেলে ধরার প্রাণান্তঃকর প্রয়াস চালিয়েছেন। ওডিআইয়েই অধিক সফল হয়েছেন। তবে, তেমন খেলতে না পারলেও সর্বদাই দলের সাথে ছিলেন। প্রায়শঃই দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। টেস্টে ব্রায়ান লারা তাঁর এক ওভার থেকে ২৮ রান আদায় করে নিয়েছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২২ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে ওয়ারিয়র্সের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এরপূর্বে ২০১৭ সালে দলের কোচিং কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। পোর্টিয়া প্যাটারসন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। হারপার প্যাটারসন নামীয় সন্তান রয়েছে।
