|

আর্থার মেইলি

৩ জানুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের জেটল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ব্যাঙ্গচিত্রবিদ ও সাংবাদিক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

জন হ্যাম্বলটন মেইলি ও জেন শার্লত দম্পতির তৃতীয় পুত্র ছিলেন। ১৩ বছর বয়সে ওয়াটারলু পাবলিক স্কুল থেকে চলে আসেন। ১৬ বছর বয়সে কাঁচ নির্মাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এরফলে, তাঁর ফুসফুস ও আঙ্গুলের শক্তি বৃদ্ধিতে যথেষ্ট সহায়তা করে। পরবর্তীকালে ওয়াটার সাপ্লাই ও সোয়ারেজ মেট্রোপলিটন বোর্ড কাজ করেন।

বলে ক্ষত সৃষ্টির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯১২-১৩ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৩ সালে উত্তর আমেরিকা ও ১৯১৪ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ড গমন করেন।

১৯২০ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩২ বছর বয়সে খেলতে নামেন। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯২০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। নিপ পেলিও, হার্বি কলিন্স, জ্যাক রাইডার, জ্যাক গ্রিগরি, জনি টেলর ও বার্ট ওল্ডফিল্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০* ও ০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৯৫ ও ৩/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৩৭৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে খেলায় ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৯/১২১ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মাত্র চার টেস্ট থেকে ২৬.২৭ গড়ে ৩৬ উইকেট পেয়েছিলেন। প্রায় সাতান্ন বছর অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট সিরিজে এ সাফল্যটি রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়। পাশাপাশি খেলায় তিনি একবার মাঠে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অসুস্থতার কারণে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে সিএন ফ্রাঙ্কের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ০/৫৫ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৬ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৪০ ও ২/৮৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একমাত্র অস্ট্রেলীয় হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে নয়-উইকেট লাভের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ১৯২৬ সালে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। প্রথম বলেই আর্থার জিলিগানকে কট এন্ড বোল্ডে বিদেয় করেন।

একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯২৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬/১৩৮ ও ৩/১২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ২৮৯ রানে স্বাগতিকরা জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ফাস্ট বোলার জেএম গ্রিগরি পায়ের আঘাতের কবলে পড়লে তাঁকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়েছিল। এ সফরে ১৮.৭০ গড়ে ১৪১ উইকেট পেয়েছিলেন।

টেস্টগুলো থেকে ৩৩.৯১ গড়ে ৯৯ উইকেট দখল করেন। দুইবার ইংল্যান্ড গমন করেন। সফরগুলোয় ২০-এর অল্প কম গড়ে ২৮৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯২১ সালে ডব্লিউডব্লিউ আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট করায়ত্ত্ব করেন। ২৮-৪-৬৬-১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ সাফল্যের কারণে ‘টেন ফর সিক্সটি সিক্স এন্ড অল দ্যাট’ নামীয় আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। এ সফরে সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ১৯.৬১ গড়ে ১৪৬ উইকেট পেয়েছিলেন।

সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ২৪.০৯ গড়ে ৭৭৯ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২.৩৩ গড়ে ১৫৩০ রান তুলেছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর সাংবাদিকতায় ঝুঁকে পড়েন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৫ মে, ১৯১৩ তারিখে চার্চ হিলের সেন্ট ফিলিপসে মড গ্লেডিস হিঞ্চক্লিফ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির তিন পুত্র ও এক কন্যা ছিল। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কিরাউই এলাকার হাসপাতালে ৮১ বছর ৩৬২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    দিলাবর হোসেন

    ১৯ মার্চ, ১৯০৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ইন্ডিয়া, মুসলিম, নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব…

  • | |

    আকাশ চোপড়া

    ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, লেখক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শিশু অবস্থাতেই পরিবারের সাথে দিল্লি চলে যান। শৈশবকাল থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। ভ্যাটস হট শট…

  • | |

    মার্ক বার্জেস

    ১৭ জুলাই, ১৯৪৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের শৌখিন খেলা থেকে পেশাদারী পর্যায়ে নিয়ে আসার ক্রান্তিলগ্নে খেলার সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলের টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেন ও দলকে ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট…

  • | | |

    স্যামি উডস

    ১৩  এপ্রিল, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে ১৪ বছর বয়সে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। শিক্ষা গ্রহণের পর আর তিনি দেশে ফিরে যাননি।…

  • | | |

    গুলাম আহমেদ

    ২৮ জুলাই, ১৯২২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের প্রথম সেরা অফ-স্পিনার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। বেশ দেরীতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে সংযুক্তি ঘটে। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে…

  • | |

    জোয়েল গার্নার

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে বার্বাডোসের এন্টারপ্রাইজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রভাব বিস্তারে অন্যতম ফাস্ট বোলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ক্রিকেট জগতে তিনি জ্যামাইকার জাতীয় পাখী ডক্টর…