৪ ডিসেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে নটিংহ্যামের সেন্ট অ্যান্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত, পেশাদার ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। পাশাপাশি ডানহাতি স্লো বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
১৪ বছর বয়সে নটিংহ্যামের লিস্টার গেটে অবস্থিত রিচার্ড ডাফ্টের ক্রিকেটসামগ্রী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী উইলিয়াম গান ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮০ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। বেশ কয়েক বছর ছন্দহীন ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ১৮৮৯ সালে প্রথমবারের মতো নিজের স্বর্ণালী মৌসুম পাড় করেন। এ পর্যায়ে ৩৮ গড়ে ১৩১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরের বছর সাসেক্সের বিপক্ষে ১৯৬ রানের ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে আর্থার শ্রিউসবারি’র সাথে ৩৯৮ রানের জুটি গড়েন ও দ্বিতীয় উইকেটে অদ্যাবধি নটিংহ্যামশায়ারের সর্বোচ্চ জুটি হিসেবে অক্ষত আছে।
১৮৮০ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলার জন্যে মনোনীত হন। সারের বিপক্ষে ঐ খেলায় উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। অপরাজিত ১৩ ও ৯ রান তুলেন। কোন খেলোয়াড়ই ৩৪-এর অধিক রান সংগ্রহ করতে পারেননি। ঐ বছর দলটির পক্ষে বারো খেলার সবকটিতেই অংশ নিয়েছিলেন। সচরাচর আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮৯ সালে ব্যাটসম্যান হিসেবে সফলতম সময় পাড় করেন।
১৮৭৭ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মোর্ডেকাই শারউইনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে চার্লি টার্নারের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারী দল ১৩ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৯ ও ১০ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। ঘটনাবহুল ঐ টেস্টে নিয়মিত আম্পায়ার জন সুইফটের অনুপস্থিতির কারণে চূড়ান্ত দিনের সকালে খেলোয়াড় ও আম্পায়ারের যৌথ দায়িত্বে ছিলেন।
১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে শতক হাঁকাতে ২৫০ মিনিট ব্যয় করেন। এছাড়াও, ওল্ড ট্রাফোর্ডে এটিই প্রথম শতরানের ইনিংস ছিল। খেলায় তিনি ১০২* ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৮৯৬ সালে নিজ দেশে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেননি। ঘটনাবহুল এ টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বে ম্যাচ ফি’র বিষয়ে আর্থিক মতানৈক্য ঘটায় পাঁচজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে খেলা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন। ববি অ্যাবেল, টম হেওয়ার্ড ও টম রিচার্ডসন পরবর্তীতে খেলায় অংশ নিলেও জর্জ লোহমানের সাথে তিনি খেলতে অস্বীকৃতি জানান। ৬৬ রানে পরাভূত হলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জুন, ১৮৯৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে আর্নি জোন্সের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮৯০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে মনোনীত হন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ৩৩ গড়ে ২৫৬৯১ রানের সন্ধান পেয়েছেন। এছাড়াও, ৩৩৪টি ডিসমিসালসহ ৭৬ উইকেট দখল করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মার্চ, ১৮৮৩ সালে অ্যান এলিজাবেথ টেলর নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির মেরি ফ্লোরেন্স নাম্নী এক কন্যা ছিল। ৯, হোপ ড্রাইভে বসবাসের পর নটিংহামের স্ট্যান্ডার্ড হিল এলাকায় চলে যায়। ১৯১০-এর দশক থেকে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হন ও পরবর্তীতে ক্যান্সারের চিকিৎসা করান। ২৯ জানুয়ারি, ১৯২১ তারিখে নটিংহ্যামের স্ট্যান্ডার্ড হিল এলাকায় নিজ গৃহে ৬২ বছর ৫৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন নটিংহ্যামশায়ার কাউন্টি ফুটবল ক্লাবের সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির মূল্য £৫৭,৩৯২ পাউন্ড-স্টার্লিং ধার্য্য করা হয়।
