|

লেল্যান্ড হোন

৩০ জানুয়ারি, ১৮৫৩ তারিখে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

রাগবি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, আয়ারল্যান্ড জেন্টলম্যান ও ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন। ১৮৭৪ সালে আই জিঙ্গারি আসলে তিনি নিখিল আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলায় অংশ নিয়েছেন। ১২জন নিয়ে গড়া দলে খেলে ১ ও ৪ রান এবং দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ১৫ রানে জয় পেয়েছিল। আইরিশ ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সুপরিচিত আইরিশ ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। আইরিশ ক্রিকেটের প্রথম তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭৮ থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এমসিসি’র সদস্যরূপে বিশ্ববিদ্যালয়ের দলের বিপক্ষে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেয়ার পরপরই ১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ লাভ করেন।

১৮৭৯ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন শৌখিন দলের সদস্যরূপে একটিমাত্র টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। আলেকজান্ডার ওয়েব, মাঙ্কি হর্নবি, বানি লুকাস, চার্লি অ্যাবসলম, ফান্সিস ম্যাককিনন, লর্ড হ্যারিস, স্যান্ডফোর্ড শ্যুলজদ্য রেভারেন্ড ভার্নন রয়্যালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ টেস্টটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের তৃতীয় টেস্ট ছিল। এরফলে, প্রথম আইরিশ হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেন। এরপূর্বে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আরও দুইজন আইরিশ খেলোয়াড় – টম হোরান ও থমাস কেলি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, জন সেলবি’র পর টেস্টে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা লাভ করেছেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ৭ ও ৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।

তাঁর অংশগ্রহণকৃত খেলাগুলো থেকে সব মিলিয়ে মাত্র আটটি খেলা প্রথম-শ্রেণীর মর্যাদা পায়। এগুলো থেকে ৭ গড়ে ৮৫ রান তুলেছিলেন এবং ৯টি ক্যাচ ও ২টি স্ট্যাম্পিংসহ মোট ১১টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। সবগুলো খেলা থেকে ১৩ গড়ে ৭৪৪ রান পেয়েছিলেন। স্মর্তব্য যে, এমন এক যুগে তিনি খেলেছিলেন যে, যখন উইকেট-রক্ষকদের ব্যাটিংয়ের মানদণ্ডকে প্রাধান্য দেয়া হতো না ও উইকেট-রক্ষকেরা সচরাচর শেষেরদিকের তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতেন।

নববর্ষের প্রাক্কালে ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৯৬ তারিখে আয়ারল্যান্ডের সেন্ট স্টিফেন্স গ্রীন এলাকায় মাত্র ৪৩ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    আল্ফ গোভার

    ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সারের এপসোমের উডকোট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯২৮ সালে ভবিষ্যতের শ্বশুর বিল ব্রুক অপর দুই সারে ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার অ্যান্ডি স্যান্ডহাম এবং হার্বার্ট স্ট্রাডউইকের কাছ থেকে আর্থিক…

  • | |

    শেন বন্ড

    ৭ জুন, ১৯৭৫ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের দূরন্ত গতিপণা, ক্ষীপ্রতা ও নান্দনিক পেসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান বোলার হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকে গতির ঝড় তুলে…

  • | | |

    জিওফ বয়কট

    ২১ অক্টোবর, ১৯৪০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ফিৎজউইলিয়াম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যতম সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। প্রায় ২০ বছর ইংল্যান্ডের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিণত হয়েছিলেন। প্রথম ইংরেজ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে…

  • |

    ইয়াসির আলী, ১৯৯৬

    ৩ জুন, ১৯৯৬ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘রাব্বি’ ডাকনামে পরিচিত। এছাড়াও, ‘ইয়াসির আলী রাব্বি’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০১৪ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। ২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন।…

  • | |

    ডেনিস লিন্ডসে

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে ট্রান্সভালের বেনোনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কিংবদন্তী ছিলেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে বর্ণাঢ্যময় ভূমিকা রেখেছিলেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তাঁর পিতা জন লিন্ডসে ও জ্যেঠা নেভিল…

  • |

    ডেভ নোর্স

    ২৫ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে ইংল্যান্ডের সাউথ নরউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল, ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের…