১ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের শোলাপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘকায় ও সুদর্শন চেহারার অধিকারী ফাস্ট বোলার। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র ও বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দূর্দান্ত সূচনা করেছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে বোম্বের সদস্যরূপে গুজরাতের বিপক্ষে হ্যাট্রিকসহ সাত-উইকেট পান ও দ্রুতলয়ে ৪৩ রান তুলেন। এরপর, বরোদার বিপক্ষে ছয় উইকেট পান। মধ্যপ্রদেশের বিপক্ষে খেলায় নয় উইকেট নিয়ে ভারতের ফাস্ট বোলিং জগতে বড় ধরনের আশার বাণী শোনান। ফলশ্রুতিতে, ভারতের জাতীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে মনোনীত করা হয়। ভারত দলে ঠাঁই হয় তাঁর।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ২০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে কৃষ শ্রীকান্তের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। সফরের প্রথম প্রস্তুতিমূলক খেলায় বিসিসিপি প্যাট্রন্স একাদশের বিপক্ষে ৬/৭৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ১৫ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১৬ বছর বয়সী শচীন তেন্ডুলকরের সাথে তাঁর একত্রে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর পরবর্তী ২৪ বছরে শচীন তেন্ডুলকর আরও ১৯৯ টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেও বোম্বের পেস বোলার হিসেবে তিনি আর কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। সেলিম মালিকের উইকেট পেলেও বেশ রান খরচ করে ফেলেন। ১৯ ওভারে ৯৩ রান দেন। সব মিলিয়ে ঐ টেস্টে ১২৮ রান খরচায় দুই উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, বিখ্যাত অল-রাউন্ডার কপিল দেবের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় এগুতে থাকে।
একই সফরের ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে গুজরানওয়ালায় অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন। অবশ্য এ সফরে ইতিহাস সৃষ্টিতে অংশ নেন। ওডিআইয়ে ইমরান খানের কাছ থেকে আসা প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান। খুব শীঘ্রই ফাস্ট বোলারদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা আঘাতের কবলে নিপতিত হন।
১৯৯০ সালে ফ্রাঙ্ক টাইসনের সহযোগিতা নিয়ে বোলিংয়ের ধরন পাল্টান। স্বল্প দূরত্ব নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন ও পেস হারালেও বেশ সুনিয়ন্ত্রিত ভাব পরিলক্ষিত হয়। তবে, ভারতের ওডিআই দলে ফিরে আসতে তাঁকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরবর্তী বছরগুলোয় বেশ কিছুসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে ভারতের ওডিআই দলে ফিরে আসতে সমর্থ হন। পুণরায় তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। এছাড়াও, ফিল্ডার হিসেবেও তিনি বেশ দূর্বলমানের ছিলেন।
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলের সদস্য হিসেবে তাঁকে রাখা হয়। কিন্তু, একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এরপর, আর একটিমাত্র সিরিজে অংশ নেয়ার পর দল থেকে আবারও বাদ পড়েন। নিজেকে কখনো দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত করতে পারেননি।
বোম্বে দলের পক্ষে এক মৌসুম খেলেন। এরপর, মহারাষ্ট্রের সদস্য হন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার এক বছর পর ২৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালের ফেডএক্স কাপের তৃতীয় একদিনের খেলায় সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে, অভিনয় জগতের দিকে ধাবিত হন। টিভি অনুষ্ঠান – ‘শশ … কোই হ্যায়ে’ অংশ নেন। পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ও সুদর্শন সলিল আঙ্কোলা এ পর্বে কিছুটা সফলতা লাভ করেছিলেন। এরপর, চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে মনোযোগী হন। মুম্বই দলের প্রধান দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
