| | |

হিমু অধিকারী

৩১ জুলাই, ১৯১৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী এবং অত্যন্ত সম্মানীয় ভারতীয় ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। এছাড়াও, সেনাবাহিনীতে যুক্ত ছিলেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যতিক্রমধর্মী ফিল্ডার হিসেবে তিনি ফিল্ডিংয়ের গুরুত্বতা সম্পর্কে সতীর্থদেরকে অবহিত করে গেছেন। সামরিক শৃঙ্খলাকে উপজীব্য করে ঐ সময়ের ভারতীয় ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের গুরুত্বতা উপলদ্ধি করেছিলেন। এক পর্যায়ে ভারত দলকে একটিমাত্র টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

দূর্দান্ত ফিল্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কভার-পয়েন্ট অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকতেন। ধারাবাহিকভাবে নিখুঁততার সাথে বলকে স্ট্যাম্প গুড়িয়ে দিতে তৎপর ছিলেন। এ সাফল্যের কারণে ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ড সফরে ‘হারি-কিরি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। তাঁর কাছে বল ঠেলে রান সংগ্রহ করা অনেকাংশেই আত্মহত্যার শামিল ছিল। ইএসপিএনক্রিকইনফোয় এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, ‘যখন আমি বিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ছিলাম তখন আমি বই পড়তাম। সেখানে ফিল্ডিংকে সফলতার প্রধান মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। যদি আপনি ১০০ রান তুলেছেন কিন্তু ৫-৬টি বাউন্ডারি আটকাতে পারেননি ও কয়েকটি ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি, তাহলে দলে আপনি মূল্যহীন। কিন্তু, আপনি যদি শূন্য রান তুলেন ও ৪৫-৫০ রান আটকান তাহলে আপনার নামের পার্শ্বে +৫০ থাকবে। তাই, ফিল্ডিং করার উপর ভিত্তি করে আপনাকে ক্রিকেট জগৎ গড়ে তুলতে হবে।’

স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষেই অধিক সফল ছিলেন। প্রকৃত পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁর দূর্বলতা ছিল। ফলে, মনেপ্রাণে খেলে আপদকালীন সময়ে নিজেকে মেলে ধরতেন। ১৭ বছর বয়সে খেলোয়াড়ী জীবনের যাত্রা শুরু করেন। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে চারটি পৃথক দলের পক্ষে খেলেছিলেন। বরোদা, গুজরাত, হিন্দু ও সার্ভিসেস দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। ৪২-এর অল্প কম গড়ে আট সহস্রাধিক রান তুলেছেন।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে গুজরাতের সদস্যরূপে ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। উভয় ইনিংসেই দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ ও ৩০ রান তুললে দল পরাজয়ের কবলে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘনঘটাকালীন নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটারে পরিণত করেন। এ পর্যায়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হন। এরপর, ঘরোয়া ক্রিকেটে সার্ভিসেস দলের সাথে যুক্ত হন। এরফলে, সার্ভিসেস দলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভারত ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেন।

১৯৪৫-৪৬ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ৬৯.৩৭ গড়ে ৫৫৫ রান সংগ্রহ করেন। বরোদার পক্ষে খেলে দলকে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। হোলকার নামে পরিচিত বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট দলের কাছে পরাজিত হয়। এ সময় দুই মৌসুমে আট ইনিংস থেকে চারটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয় মূলতঃ শক্তিধর ভারতীয় ব্যাটিং অবস্থানের কারণে।

১৯৫০-এর দশকে সার্ভিসেস দলের নেতৃত্বে ছিলেন ও দলকে তাদের ইতিহাসের স্বর্ণালী সময়ে নিয়ে যান। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে সার্ভিসেস দলের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দলকে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। পরের বছরেও এর পুণরাবৃত্তি ঘটান। অদ্যাবধি এ দুবারই সার্ভিসেস দল রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়েছিল। তবে, উভয় ক্ষেত্রেই বোম্বে ও বরোদার বিপক্ষে দলটি পরাজয়বরণ করেছিল। তাঁর অধিনায়কত্বে সার্ভিসেস দল থেকে বাল দানি, অপূর্ব সেনগুপ্তা, চন্দ্রশেখর গদকড়ি, রমন সুরেন্দ্রনাথ, নারায়ণ স্বামী ও ভেঙ্কটাপ্পা মুদ্দিয়া টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে ২১ টেস্টে ভারত দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ঐ দলগুলোর বিপক্ষেই ব্যক্তিগত সেরা ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। নিজ দেশে অনুষ্ঠিত টেস্টগুলোয় ব্যাপকভাবে রান পেয়েছেন। ৪৯-এর কাছাকাছি গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব দেরীতে হয়। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ২৯-এর কাছাকাছি। এছাড়াও, সামরিক দায়িত্ব পালনে বিধি-নিষেধের কারণে ঐ সময়ে ৪৭ টেস্ট অনুষ্ঠিত হলেও ভারতের পক্ষে ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করার সুযোগ পান। ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিল জনস্টন এবং ভারতের গগুমাল কিষেণচাঁদ, জেনি ইরানী ও খান্দু রংনেকরের সাথে একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৮ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস ও ২২৬ রানের ব্যবধানে পরাভূত হয়েছিল।

এরপর, ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ৫১ রান তুলেন। সপ্তম উইকেট জুটিতে বিজয় হাজারে’র সাথে ১৩২ রান যুক্ত করেন। ছয়জন ব্যাটসম্যানই কোন রান তুলতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২ রান তুলে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ১০ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এ সফরে বেশ সাধারণমানের ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। পাঁচ টেস্ট থেকে মাত্র ১৭.৩৩ গড়ে ১৫৬ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও, মানসম্পন্ন পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ভীতিহীন চিত্তে ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা প্রদর্শনে দল নির্বাচকমণ্ডলী আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছিলেন। একই বছরে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট’ কর্তৃক হীরালাল গায়কোয়াড়, কেসি ইব্রাহিম, দাত্তু ফদকর ও সি রঙ্গচারী’র সাথে অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন। কিন্তু, তাঁর এ সম্মাননাপ্রাপ্তি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, পূর্বেকার মৌসুমগুলোয় তিনি অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে দিল্লির কোটলায় শক্তিশালী ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হন। নিজস্ব একমাত্র শতক হাঁকিয়ে টেস্ট রক্ষার্থে এগিয়ে আসেন। সফরকারীদের ৬৩১ রানের জবাবে ২৪৯/৫ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। ভারত দল ৪৫৪ রান তুললেও তিনি ১১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ সংগ্রহটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাত নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মর্যাদা পাচ্ছে। এছাড়াও, তিনি তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছেন। পরবর্তীতে দলের সংগ্রহ ১৪২/৫ থাকাকালে ক্রিজে নামেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতকে ড্র করতে সহায়তা করেন।

চার বছর পর ১৯৫২ দিল্লিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটের উদ্বোধনী টেস্টে দলীয় সংগ্রহ ১৮০/৬ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ পর্যায়ে শেষ উইকেটে গুলাম আহমেদের সাথে ১০৯ রানের জুটি গড়েন। প্রায় ৫০ বছর এ সংগ্রহটি ভারতীয় রেকর্ড হিসেবে টিকেছিল। পরবর্তীতে, ২০০৪-০৫ মৌসুমে শচীন তেন্ডুলকরজহির খান বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৩৩ রান তুলে তাঁদের রেকর্ডকে ম্লান করে দেন। বিস্ময়করভাবে এরপর ভারতের পক্ষে আর মাত্র তিন টেস্ট খেলেছিলেন। ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ড সফরে দলের সহঃঅধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

১৯৫৯ সালে নাটকীয়ভাবে জাতীয় দলে ফিরে আসেন। শুধুমাত্র খেলোয়াড় হিসেবেই নয়; বরঞ্চ অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন অপ্রতিরোধ্য ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে প্রথম চার টেস্টের তিনটিতেই পরাজিত হলে তাঁকে এ দায়িত্বে রাখা হয়। ওয়েস হলরয় গিলক্রিস্টসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়। এমনকি ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় আলোচিত হয়েছিল। সফরকারী দলের বিপক্ষে প্রথম চার টেস্টে পলি উমরিগড়, গুলাম আহমেদ ও বিনু মানকড়কে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়ার পর পঞ্চম টেস্টে গুলাবরায় রামচাঁদকে অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করা হলেও তিনি বোম্বে ত্যাগ করেন। এরফলে, ১৯৫৬ সালে টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে থাকা হিমু অধিকারীকে সামরিক দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে অধিনায়কত্ব প্রদান করা হয়।

ঐ সময়ে ধর্মশালায় অবস্থানরত হিমু অধিকারী প্রথমে এ প্রস্তাবনা ফিরিয়ে দিলেও সামরিক প্রধানের চাপে পড়ে পঞ্চম টেস্টে দায়িত্ব পালনে সম্মত হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে দিল্লি টেস্টে অংশ নেন। ঐ খেলায় তিনি ৬৩ ও ৪০ রান তুলেন এবং লেগ-ব্রেক বোলিং করে কনরাড হান্ট, বাসিল বুচার ও ডেনিস অ্যাটকিনসন – এ তিনজনের উইকেট লাভ করেন। এগুলোই টেস্টে তাঁর সংগৃহীত উইকেট ছিল। তাঁর উপস্থিতিতে দলে উজ্জ্বীবনী শক্তি গড়ে উঠে। প্রতিপক্ষের সমীহের পাত্রে পরিণত হয় ভারত দল। উপর্যুপরী তিন টেস্টে পরাজয়বরণের পর খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এ মৌসুমেই ভারত দলকে ৭ টেস্টে ৬জন ক্রিকেটার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডে পরবর্তী সফরে ভারত দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পান। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৪০। তবে, এবার তিনি বেঁকে বসেন। শারীরিক সুস্থতা ও অনুশীলনের অভাবের কথা তুলে ধরে দল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। ডিকে গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন দলটি পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ধবল ধোলাইয়ের শিকার হয়। এরপর আর তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি। আরও এক মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর অবসর গ্রহণ করেন।

টেস্টগুলো থেকে ৩১.১৪ গড়ে ৮৭২ রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে নিজ দেশে ৪৮.০৭ গড়ে ৬৭৩ রান তুলেন। অবসরকালীন ভারতীয়দের মধ্যে কেবলমাত্র বিজয় হাজারে তাঁর চেয়ে অধিক গড়ে রান পেয়েছিলেন। ফিরোজ শাহ কোটলায় অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। খেলোয়াড়ী জীবনের ৪২% রান পেয়েছেন এখানে। ১৮২.৫০ গড়ে ৩৬৫ রান তুলেন। তবে, বিদেশের মাটিতে মাত্র ১৪.২১ গড়ে ১৯৯ রান তুলেছেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪১.৭৪ গড়ে ৮৬৮৩ রান তুলেন। এছাড়াও, কার্যকর লেগ-স্পিন বোলিং করে ৪৯ উইকেট লাভ করেন। ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন ৯৭টি। বলা হয়ে থাকে যে, ১৯৭১ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁর ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিক সাফল্যে ভারতীয় ফিল্ডিংয়ের ভূমিকা অপরিসীম ছিল। তাঁর তত্ত্বাবধানে ফিল্ডিং অনুশীলন বেশ গুরুত্ব বহন করে ও ফলাফলে এর ভূমিকা টের পাওয়া যায়। কৌশল গ্রহণের ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে প্রাপ্ত শৃঙ্খলা দলের অংশ হয়ে পড়ে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে সামরিক জীবনের সমাপ্তি টানেন। অবসর নেয়ার পরও ক্রিকেটের সাথে যুক্ত থাকেন। সেনাবাহিনীসহ জাতীয় ক্রিকেট দলকে প্রশিক্ষণ দেন। প্রশাসনিকভাবে সফলতা পান। ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকাকালে ১৯৭১ সালে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বাধীন ভারত দল ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসক হিসেবেও সমান যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ভারত দলকে সাথে নিয়ে কয়েকবার বিদেশ সফর করেন। ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের টেস্ট দলকে পরিচালনা করেছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কয়েকবার পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেটে অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে অনবদ্য ভূমিকার কারণে ১৯৯৯ সালে সিকে নায়ড়ু আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হন। মাঠ ও মাঠের বাইরে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। বাপু নদকার্নি’র ভাষ্য মোতাবেক জানা যায়, ব্যক্তি হিসেবে তিনি সর্বদাই ভদ্র, দয়ালু ও সোজাসাপ্টা ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। কমলা নাম্নী এক রমণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ২৫ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে মুম্বইয়ে ৮৪ বছর ৮৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ক্রিকেট লেখক সুরেশ মেনন মন্তব্য করেন যে, ‘১৯৭২ সালের সিরিজ বিজয়ের পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফিল্ডিং ও শারীরিক সুস্থতার গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন। তিনি পথিকৃৎ হয়ে থাকবেন।’ তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলন করতেন ও সতীর্থরা যাতে তা অনুসরণ করে তা নিশ্চিত করতেন। রাজ সিং দুঙ্গারপুর আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন যে, ‘যদি টেলিভিশনের পর্দায় ঐ সময়ের খেলাগুলোয় তাঁর খেলার ধরনকে ধারন করা হয় তাহলে তাঁকে জন্টি রোডসের সাথে তুলনা করা যেতে পারেন। কভার-পয়েন্ট অঞ্চলে পাহাড়ায় নিযুক্ত থেকে নিবেদিতপ্রাণ সৈনিকের ন্যায় সেবা দিয়ে গেছেন।’

Similar Posts

  • | |

    ড্যারেন লেহম্যান

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গলার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘বুফ’ ডাকনামে ভূষিত ড্যারেন লেহম্যান ১.৭৬ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া…

  • | |

    বিলি ইবাদুল্লাহ

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৭২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাঞ্জাব, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া ও…

  • |

    শহীদ ইসরার

    ১ মার্চ, ১৯৫০ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সবমিলিয়ে এগারো মৌসুম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ…

  • |

    চার্লস কভেন্ট্রি

    ৮ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তবে, একদিনের ক্রিকেটে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক ও উইকেট-রক্ষণে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, ওয়েস্টার্নস…

  • |

    ডেনিস মরকেল

    ২৫ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের প্লামস্টিড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। চমৎকারভাবে বলকে অফের দিকে ঠেলে দিতেন। এছাড়াও, যে-কোন ধরনের বোলিংয়ের…

  • | |

    চামিণ্ডা ভাস

    ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে মাত্তুমাগালা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের স্বর্ণযুগে অন্যতম সেরা ক্রিকেট তারকা ছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে নতুন বল নিয়ে বিশ্বসেরা বোলারদের অন্যতম ছিলেন। খুব সহজেই শ্রীলঙ্কার নতুন…