২৬ জুন, ১৯৭৬ তারিখে মাতাবেলেল্যান্ডের প্লামট্রি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটের সাথে পারিবারের কোন সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও বেশ প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আধুনিক যুগের অন্যতম ক্রেতাদূরস্ত টেলিভিশন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। কথাবার্তা, আত্মবিশ্বাস সহযোগে এ ভূমিকায় অগ্রসরকালে শ্রোতাদের নজর কাড়েন।

খেলোয়াড়ী জীবনের দিনগুলোয় মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। পূর্ণমাত্রায় পেস বোলিং করতেন না। তবে, যথেষ্ট নিখুঁততার সাথে সিম সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, আউট-সুইংয়ে সক্ষম ছিলেন। সাধারণ গতিবেগে বল ছুঁড়তেন। এরফলে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত উইকেট লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তবে, টেস্ট অভিষেকে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। তবে, ব্যাটিং উপযোগী পিচে শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করে সফলতা পেতেন না।

ইংল্যান্ডে এক বছর বিদ্যালয় জীবন অতিবাহিত করেন। এরপর, ১৯৯৬ সালে ডেনিস লিলি’র পরিচালনায় চেন্নাইভিত্তিক এমআরএফ ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্লাসকন একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান ও সেখানে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ও মাতাবেলেল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম মৌসুম খেলার পরপরই জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০২ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট ও ২৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে পাকিস্তান গমনার্থে অ্যালাস্টেয়ার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলে বিস্ময়করভাবে যুক্ত হন। দলের শীর্ষ বোলারদের আঘাতের কারণে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এভারটন মাতাম্বানাদজু’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখ থেকে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় সুযোগের সদ্ব্যবহারে তৎপর হন। ইজাজ আহমেদ ও ওয়াসিম আকরামের উইকেট লাভ করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজিত হয়।

কিন্তু, এরপর থেকে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বেশ হিমশিম খেতে থাকেন। পেসের অভাব থাকায় ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। দলে আসা-যাওয়ার কবলে পড়েন। বেশ তরুণ অবস্থাতেই পর্দার অন্তরালে চলে যান।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে আলিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৯ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে ব্লোমফন্তেইনের গুডইয়ার পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ২/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রান করে সংগ্রহ করেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/৫৮ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০১ সালে টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। চিন্তাশীল দৃষ্টিভঙ্গী দর্শকদেরকে আকৃষ্ট করে। ২০০৫ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন।

Similar Posts

  • | | | |

    ইফতিখার আলী খান পতৌদি

    ১৬ মার্চ, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের পতৌদি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ড ও ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, ভারত দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পতৌদির অষ্টম নবাব ছিলেন। ধৈর্য্যশীল, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ চিত্তে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ইফতিখার আলী খান…

  • |

    টমি ওয়ার্ড

    ২ আগস্ট, ১৮৮৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। গ্লাভস কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়ে দূর্দান্ত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে, ব্যাটিংয়ে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৯০৯-১০ মৌসুম থেকে ১৯২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    আলবার্ট হার্টকফ

    ২৮ ডিসেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতে পারতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১১-১২ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    আইজাক বাইস

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে কেপ কলোনির সমারসেট ইস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯২৪-২৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল

    ১ মার্চ, ১৮৮৮ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের র‍্যাটবি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৬ থেকে ১৯৩৯ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনেকগুলো…

  • |

    ফেন ক্রেসওয়েল

    ২২ মার্চ, ১৯১৫ তারিখে ওয়াঙ্গানুইয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সামনের পায়ের উপর ভর রেখে বল ফেলতেন। ৩৪ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…