|

বিল এডরিচ

২৬ মার্চ, ১৯১৬ তারিখে নরফোকের লিংউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

নরউইচভিত্তিক ব্রাকনডেল স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাইনর কাউন্টি ক্রিকেটে নরফোকের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৪৭ সালের গ্রীষ্মে ডেনিস কম্পটনকে সাথে নিয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেছিলেন।

১৯৩৮ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩৯ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলে তাঁর অংশগ্রহণ উত্থান-পতনে ভরপুর ছিল। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ৪০.০০ গড়ে ২৪৪০ রান ও ৪১.২৯ গড়ে ৪১ উইকেট দখল করেছেন। ১৯৩৮ সালে নিজ দেশে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডগ রাইটরেগ সিনফিল্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ০/৪৪ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১ ও ২১৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে চাদ ল্যাংটনের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২১ মার্চ, ১৯৪৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

১৯৪৭ সালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। লর্ডস টেস্টে ১৮৯ রান তুলে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ১০ উইকেটের ব্যবধানে জয়ে অংশ প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। এ পর্যায়ে ২০৮ রান তোলা ডেনিস কম্পটনের সাথে ৩৭০ রানের জুটি গড়েন। অদ্যাবধি এ মাঠে সর্বোচ্চ জুটি হিসেবে তাঁদের সংগ্রহটি চিত্রিত হয়ে আছে। অনবদ্য শতক হাঁকানোর সুবাদে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। দলীয় সংগ্রহ ৭৫/১ থাকা অবস্থায় তিন নম্বর অবস্থানে মাঠে নেমে দলের সংগ্রহ ৪৬৬/৩ করে বিদেয় নেন। তাঁর ইনিংসটি ৩৬১ মিনিটব্যাপী স্থায়ী ছিল। ২৬টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান। এ ইনিংসের কল্যাণে দল ইনিংস ঘোষণা করে ও ১০ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়। পরবর্তীকালে লর্ডসে তাঁদের কীর্তিগাঁথাকে স্মরণীয় করে রাখতে জে.পি. মরগ্যান মিডিয়া সেন্টারের উভয় পার্শ্বে স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়।

১৯৪৯ সালে নিজ দেশে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৩ আগস্ট, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৯৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১০০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়।

১৯৫৩ সালে ওভাল টেস্টের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ করায়ত্ত্বে অংশ নেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২১ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, সর্বক্রীড়ায় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফুটবলে দক্ষ ছিলেন। যুদ্ধের পূর্বে নরউইচ সিটি ও টটেনহাম হটস্পারের পক্ষে ফুটবল খেলেছেন। ২৪ এপ্রিল, ১৯৮৬ তারিখে বাকিংহ্যামশায়ারের হোয়াইটহিল কোর্ট এলাকায় নিজ গৃহে দূর্ঘটনার শিকারে পরিণত হন ও ৭০ বছর ২৯ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। সতীর্থ দলীয় সঙ্গীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। অত্যধিক মদ্যপান করতেন ও বেশ কয়েকবার বিবাহ-বিচ্ছেদে অংশ নেন।

Similar Posts

  • |

    জর্জ শেপস্টোন

    ৯ এপ্রিল, ১৮৭৬ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ১৯০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    হার্বি টেলর

    ৫ মে, ১৮৮৯ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। ১৯০৯-১০ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল, ট্রান্সভাল…

  • |

    পাড থার্লো

    ১০ জানুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের টাউন্সভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজের সময়কালে অস্ট্রেলীয়…

  • |

    উদারা জয়সুন্দারা

    ৩ জানুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে মিনুওয়াঙ্গোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সভিত্তিক খেলার আওতায় চিহ্নিত হন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ক্রমাগত রান সংগ্রহ করে সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক রান…

  • | | |

    লাসিথ মালিঙ্গা

    ২৮ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে গল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়েও পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপারমাডু মিল্টন ও স্বর্ণা থিনুয়ারা দম্পতির সন্তান। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি…

  • |

    দিনেশ রামদিন

    ১৩ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে ত্রিনিদাদের কুভা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। শুরু থেকেই প্রকৃত মানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোন সন্দেহের সৃষ্টি হয়নি। এমনকি, অভিষেকের পর থেকে…