|

উইলি ওয়াটসন, ১৯৬৫

৩১ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

অন্যতম মিতব্যয়ী বোলার হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। স্ট্যাম্প বরাবর নিখুঁততার সাথে বোলিং করে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে ‘ডিবলি ডবলি পেসার্স’ ডাকনামে আখ্যায়িত ক্রিস হ্যারিস ও গেভিন লারসেনের অন্যতম ছিলেন। তাঁরা পেস বোলিংয়ে জোর না দিয়ে উইকেট লক্ষ্য করে বল ফেলতেন ও প্রতিপক্ষের রান সংগ্রহে স্থবিরতা নিয়ে আনতেন।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট ও ৬১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬ সালে দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৫ এপ্রিল, ১৯৮৬ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন। অভিষেক খেলায় ৯-২-১৫-৩ নিয়ে দলের স্বান্তনাসূচক বিজয়ে অংশ নেন।

এরপর, একই বছর জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুলাই, ১৯৮৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৭০ ও ০/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে এক রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্রাহাম গুচের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

৫০-ওভারের ক্রিকেটে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। অংশগ্রহণকৃত ৬১ ওডিআইয়ের মধ্যে কেবলমাত্র তিনটিতে ওভারপ্রতি ছয় রানের অধিক খরচ করেছিলেন। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় মার্টিন ক্রো’র অধিনায়কত্বে অপর তিনজন সমমানের বোলারদের সাথে তিনি বোলিং আক্রমণে অংশ নেন। ঐ প্রতিযোগিতায় বিরাট ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন ও স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। বলে গতি না থাকলেও বোলিং উদ্বোধনে নামেন। চাতুর্য্যতার সাথে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের সাথে দীপক প্যাটেলের স্লো বোলিং বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। ইনিংসের শেষদিকে পুণরায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। চারজন বোলার এ প্রতিযোগিতায় ২৫০.১ ওভারে ১০৪১ রান খরচ করেন। তন্মধ্যে, তিনি ৭০ ওভারে ওভারপ্রতি মাত্র ৩.৮১ রান খরচ করেছিলেন।

এছাড়াও, টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৪ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ০/১১৮ লাভ করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অবশ্য, মার্ক গ্রেটব্যাচের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

দীর্ঘ সংস্করণের খেলোর উপযোগী করে নিজেকে গড়তে পারেননি। তবে, প্রতিপক্ষের রান সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যে অধিনায়ক তাঁকে ব্যবহার করতেন। প্রায়শঃই দীর্ঘ সময় ধরে একাধারে বোলিং করতেন। টেস্টগুলো থেকে কেবলমাত্র তিনবার দলের জয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। দলের প্রধান বোলার না হওয়া সত্ত্বেও একবার ছয়-উইকেট লাভ করেছিলেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬/৭৮ লাভ করে দলকে নয় উইকেটের জয় এনে দেন। পিচের বৈচিত্র্যতা থাকলেও নিজেকে একইভাবে ফুটিয়ে তুলতেন।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ১০ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শোয়েব মোহাম্মদের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৩ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৮ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ওয়াসিম আকরামকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৫১। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৬/৭৮ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ওয়াকার ইউনুসের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১০ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্মর্তব্য যে, জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এটিই ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, অ্যান্ড্রু জোন্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট