১৯ ডিসেম্বর, ১৯১৬ তারিখে অকল্যান্ডের গ্রে লিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন। স্ট্রোকপ্লের ফুলঝুড়ির পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় অজস্র রানের সন্ধান পেয়েছেন। অকল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের তারকা খেলোয়াড়ের খ্যাতি লাভ করেছেন।

১৯৩৭ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে সন্দেহাতীতভাবে নিউজিল্যান্ডের সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে নিজের স্বর্ণালী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবন উপভোগ করতে পারেননি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্বে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ড অভিমুখে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে গমন করেন। ২৬ জুন, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সনি মলোনি, এরিক টিন্ডিল, জ্যাক কাউয়ি, মার্টিন ডনেলি ও ওয়াল্টার হ্যাডলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক ঘটা টেস্টে জোড়া অর্ধ-শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ৫২ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো খেলেন। বিল ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ মার্চ, ১৯৪৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটিতে খেলেন। খেলায় তিনি ১০ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। চার দিন নিয়ে গড়া ঐ টেস্টটি দুই দিনে শেষ হয়ে যায়। ইনিংস ও ১৩৩ রানে পরাজিত হয় তাঁর দল।

১৯৪৯ সালে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। ১৩ আগস্ট, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ৫৫ ও ৫৮ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়।

১৯৫০-৫১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৮ রান অতিক্রম করেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকান দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতেই তিনি অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। প্রত্যেক সফরেই বিশালসংখ্যক রান পেয়েছেন। কিন্তু, দল নির্বাচকদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কবলে পড়েন। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়কালে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে বিবেচিত করা হতো। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর উপর আস্থা রাখতে পারেননি ও দৃশ্যতঃ নিজের সেরা সময় অতিবাহিত করে এসেছেন। এছাড়াও, বয়সের ভারেও ন্যূহ ছিলেন।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশ করেন। ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের সহঃস্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন। ২০০৪ সালের রাণীর জন্মদিনের সম্মাননায় সম্মানিত হন ও অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ নিউজিল্যান্ড অর্ডার অব মেরিট পদবীতে ভূষিত হন। অকল্যান্ড ক্রিকেটের স্বর্গভূমি ইডেন পার্কস আউটার ওভালের একটি ছাউনি ওল্ড মেম্বার্স স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে মার্ভ ওয়ালেস স্ট্যান্ড নামে পুণঃনামাঙ্কিত হয়। যোসেফ রোমানোস ‘মার্ভ ওয়ালেস – এ ক্রিকেট ব্লাস্টার’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জীবনের শেষদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কবলে পড়েন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন ও এক পর্যায়ে অন্ধত্ববরণ করেন। অবশেষে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২১ মার্চ, ২০০৮ তারিখে অকল্যান্ডে ৯১ বছর ৯৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। জন রিড তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, সিলভার ফার্ন পরিহিত সর্বাপেক্ষা অবমূল্যায়িত ক্রিকেটার ছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    হার্শেল গিবস

    ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের গ্রীন পয়েন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। সর্বোচ্চমানের ফিল্ডিং ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে ক্রিকেট জগতে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।…

  • |

    বিল প্লেল

    ১ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে অকল্যান্ড…

  • | | |

    হ্যারি কেভ

    ১০ অক্টোবর, ১৯২২ তারিখে ওয়াঙ্গানুইয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন-সুইঙ্গার ও লেগ কাটারে সবিশেষ পারদর্শীতা দেখান। দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁতমানের বোলিং করতেন। ব্যাট হাতে রোমাঞ্চপূর্ণ খেলা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উপহার দিলেও টেস্ট…

  • |

    গ্যারি বার্টলেট

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ তারিখে মার্লবোরার ব্লেনহেইমে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেললেও সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমার কারণে তাঁর স্বাভাবিক খেলোয়াড়ী জীবন বাঁধাগ্রস্ত হয়। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    বিশ্ব ফার্নান্দো

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন ও নিখুঁতমানের বামহাতি ফাস্ট বোলার। বলে বেশ পর্যাপ্ত পরিমাণে পেস আনয়ণ করতে পারেন। জাতীয় দলে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। এর…

  • |

    প্যাট ট্রিমবর্ন

    ১৮ মে, ১৯৪০ তারিখে নাটালের গ্লেনউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০…