| |

লর্ড হক

১৬ আগস্ট, ১৮৬০ তারিখে লিঙ্কনশায়ারের উইলিংহাম রেক্টরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৮৮১ সালের শরৎকালে কেমব্রিজের অধীন মাগদালেন কলেজে ভর্তি হন। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট একাদশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৮৮২, ১৮৮৩ ও ১৮৮৫ সালে ব্লুধারী হন। কেমব্রিজে থাকাকালীন সামরিক জীবনে যুক্ত হবার পরিকল্পনা করেন। ১৮৮৪ সালে সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যস্ত থাকায় তাঁর শূন্যতা পূরণে দলকে অক্সফোর্ডের বিপক্ষে হারতে হয়। পরের বছর কেমব্রিজের অধিনায়ক হিসেবে ফিরে এসে বিজয়লাভে অংশ নেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৮১ থেকে ১৯১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।

এডওয়ার্ড হেনরি জুলিয়াস হক ও তদ্বীয় পত্নী জেনের দ্বিতীয় এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ও জীবিত পুত্র ছিলেন। নিউয়ার্কের প্রথম বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন প্রধানশিক্ষক রেভারেন্ড হার্বার্ট প্ল্যাটার তাঁকে বামহাতে ব্যাটিং করতে বারণ করেন। এরপর থেকে শৈশবেই সহজাত বামহাতি লর্ড হক ডানহাতে ব্যাটিং করতেন।

১৮৯৬ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে টিম ও’ব্রায়ানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হ্যারি বাট, আর্থার হিল, অডলি মিলার, সি. বি. ফ্রাই, চার্লস রাইট, হিউ ব্রোমলি-ডেভেনপোর্ট ও টম হেওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ২৮৮ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১ এপ্রিল, ১৮৯৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ২১০ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

শেষ জীবনে তিনি বামহাতে বিলিয়ার্ড খেলতেন ও বাম কাঁধে বন্দুক রাখতেন। ১৮৮৭ সালে সপ্তম ব্যারন হক পদবী ধারণ করেন। দয়ালু ও বন্ধুবাৎসল্য চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। অনেকগুলো বছর এমসিসি’র বিভিন্ন কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮৯৯ থেকে ১৯১১ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৪ সালে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। সাধারণতঃ প্রতি বছর মনোনয়ন করা হলেও ১৯১৮ সাল পর্যন্ত যুদ্ধের কারণে তাঁর মেয়াদ বর্ধিত ছিল। ১৯৩২ সাল থেকে মৃত্যু পূর্ব-পর্যন্ত কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১ জুন, ১৯১৬ তারিখে মারজোরি নেলসন রিচি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির কোন সন্তানাদি হয়নি। ১০ অক্টোবর, ১৯৩৮ তারিখে স্কটল্যান্ডের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায় ৭৮ বছর ৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে মৃত্যু পরবর্তীকালীন হিসেবে অনুযায়ী £৫৯০৪৩ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান। লর্ডসের লং রুমে তাঁর প্রতিকৃতি রাখা আছে।

Similar Posts

  • | | |

    ভিভ রিচার্ডস

    ৭ মার্চ, ১৯৫২ তারিখে অ্যান্টিগুয়ার সেন্ট জোন্সে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। সামনের পায়ের উপর ভর…

  • | | |

    বেভান কংডন

    ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮ তারিখে তাসমানের মতুয়েকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতি মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালনসহ তুখোড় নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং কৌশল গ্রহণের অধিকারী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে নিজেকে যথোচিত মেলে ধরতেন। বেশ…

  • |

    পল অ্যাডামস

    ২০ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্লামস্টিড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৪ সালে কিশোর দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    নুয়ান প্রদীপ

    ১৯ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে নেগোম্বো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘সিরাসা’ ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ডানহাতে পেস বোলিং করে থাকেন। সুইং বোলিংয়ের কারণে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। শ্রীলঙ্কা দলের…

  • | |

    সালাহউদ্দীন

    ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলীগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বন্দর নগরী করাচীতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ধ্রুপদী ঢংয়ে ডানহাতে অপূর্ব ড্রাইভে খেলায় অংশ নিতেন। এছাড়াও, ধীরলয়ের অফ-ব্রেক বোলিংয়ের…

  • | | |

    অংশুমান গায়কোয়াড়

    ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে স্ট্রোকপ্লে ও দৃষ্টিনন্দনের মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন। দূরন্তগতিপণার পেস আক্রমণের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। তিনি যে সর্বদাই রান সংগ্রহ পেতেন…