২৩ নভেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে মিডলসেক্সের ইলিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। খ্যাতনামা ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। খাঁটিমানের রক্ষণব্যূহ গড়ে ও আক্রমণাত্মক শট খেলতেন। অফ-সাইডে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ফাস্ট রাউন্ড-আর্ম বোলিং করতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৯ থেকে ১৯০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। কেন্ট দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন।

১৮৮৯ থেকে ১৮৯৬ সময়কালে সব মিলিয়ে মাত্র ছয় টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ২টি ও ১৮৯২ থেকে ১৮৯৬ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ৪ টেস্টে অংশ নেন। মেজর হোয়ার্টনের ব্যবস্থাপনায় ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় এমসিসি দলের প্রথম সফরে যান। ১২ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মন্টি বাউডেন, ব্যাসিল গ্রিভ, চার্লস কভেন্ট্রি, আর্নল্ড ফদারগিল ও অব্রে স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তাঁর দল দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

কিন্তু ঐ সফর শেষে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় থেকে যান। কেপটাউনে ক্রীড়া সরঞ্জাম বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গড়েন। এক পর্যায়ে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে দুই টেস্টে অংশ নেয়ার পর দুই বছরের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়াল্টার রিডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে ইংল্যান্ড দলে থাকা অপর দুই ভ্রাতার অভিষেক খেলায় তাঁরও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে দুইটি দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৯ রানে জয়লাভ করে।

১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ছয়টি টেস্ট পরিচালনা করেছিলেন। ১৮৯৪ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান জর্জ এ. এফ. হার্ন দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলেছে। অপর দুই ভ্রাতা – অ্যালেক হার্ন ও জর্জ জি. হার্ন ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১৪ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে কেপ প্রদেশের কেপটাউনে ৯০ বছর ২৩৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    ওয়েন জেমস

    ২৭ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৮ ঊর্ধ্ব গড়ে রান…

  • |

    জন ট্রাইকোস

    ১৭ মে, ১৯৪৭ তারিখে মিশরের জাগাজিগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় নিখুঁত অফ-স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। পিতা-মাতা গ্রীক বংশোদ্ভূত ছিলেন ও ১৯৪৮ সালে…

  • |

    ফারুক হামিদ

    ৩ মার্চ, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর ও…

  • | |

    দেবাং গান্ধী

    ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে গুজরাতের ভাবনগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    কেনরয় পিটার্স

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাড়ার ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ২০০০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে উইন্ডওয়ার্ড…

  • | | |

    বয়েড র‌্যাঙ্কিন

    ৫ জুলাই, ১৯৮৪ তারিখে লন্ডনডেরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ‘বয়ডো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। স্ট্রাব্যান গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে হার্পার অ্যাডামস ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে ২০১৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…