|

ওয়াশিংটন সুন্দর

৫ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিং করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার মধ্য দিয়ে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের উত্তরণ ঘটতে থাকে। পিতা এম সুন্দর তামিলনাড়ুর রঞ্জী ট্রফি দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটার ছিলেন। তবে, চূড়ান্ত দলে ঠাঁই পাননি। এম শৈলজা নাম্নী ভগ্নী রয়েছে। ব্যাট ক্রয় ও আনুষাঙ্গিক আর্থিক সহযোগিতার কারণে ধর্মপিতা পিডি ওয়াশিংটনের সম্মানার্থে তাঁর নামকরণ করেন।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শেষে সকলের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেন। তবে, ঐ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে পরাজিত হয়ে ভারত দলকে রানার্স-আপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জোন্স টুটি প্যাট্রিয়টস, মাদ্রাজ রাবার ফ্যাক্টরি, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষ খেলেছেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় তামিলনাড়ু দলের পক্ষে খেলেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে রোহতকে মুম্বই বনাম তামিলনাড়ুর মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। শুরুতে উদীয়মান তরুণ হিসেবে শীর্ষসারিতে ব্যাটিং করেছেন। এছাড়াও, কার্যকর অফ-স্পিন বোলিং করেন। কিন্তু, খেলোয়াড়ী জীবনের পরবর্তী দিনগুলোয় ব্যাটসম্যানের পরিবর্তে নিজেকে ধীরে ধীরে বোলারের দিকে নিয়ে যান।

২০১৭ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পরিবর্তে পুনেভিত্তিক বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিতে আবদ্ধ হলে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিতব্যয়ী বোলিং করে চমক দেখাতে থাকেন। ১৮ বছর বয়সী ওয়াশিংটন সুন্দরকে ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত করতে সচেষ্ট হন। ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের ১০ম আসরে প্রথম দল হিসেবে খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। খেলায় তিনি তিন উইকেট লাভ করেন।

এরপর, তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় আসরেও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। শীর্ষ রান সংগ্রাহকের পাশাপাশি শীর্ষ উইকেট লাভকারীদের তালিকায়ও নিজেকে ঠাঁই করে নেন। এ সকল কৃতিত্বের কারণে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।

২০১৭ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সীমিত-ওভারের খেলায় ভারতের সদস্যরূপে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এরপর, ভারতের টি২০আই দলের সদস্য হন। ৮ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন। ফলশ্রুতিতে, ১৮ বছর ৮০ দিন বয়স নিয়ে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ টি২০আই অভিষেকধারী খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। পরের বছর নিলামের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুর বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দলের সদস্য হন। তবে, তেমন খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণে নিদাহাস ত্রি-দেশীয় সিরিজে ভারত দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। নিজস্ব প্রথম তিন-উইকেটের সন্ধান পান। এরফলে, সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে টি২০আইয়ে এ সফলতার অধিকারী হন। সব মিলিয়ে ঐ প্রতিযোগিতায় ৮ উইকেট দখল করেন ও ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কারপ্রাপ্ত হন।

২০২০-২১ মৌসুমে অজিঙ্কা রাহানে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। টি নটরাজনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত খেলেন। খেলায় তিনি ৩/৮৯ ও ১/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৬২ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ঋষভ পন্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কারণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করে ও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ করায়ত্ত্ব করে নেয়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৪ মার্চ, ২০২১ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ১/১৪ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, ঋষভ পন্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে জয় পেয়ে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৪/৮১ ও ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৮* ও ১২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, এজাজ প্যাটেলের স্মরণীয় বোলিংনৈপুণ্যে সফরকারীরা মাত্র ২৫ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৫ সালে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ৩১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬ ও ৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মোহাম্মদ সিরাজের বল হাতে নিয়ে অপূর্ব বোলিং কৃতিত্বের কারণে স্বাগতিকরা নাটকীয়ভাবে ৬ রানে পরাভূত হলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়।

Similar Posts

  • | |

    অজিঙ্কা রাহানে

    ৬ জুন, ১৯৮৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের অশ্বি-কেডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। বাবুরাও রাহানে ও সুজাত রাহানে দম্পতির সন্তান। শশাঙ্ক রাহানে…

  • |

    নাসির হোসেন

    ৩০ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে রংপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। নিজের সেরা দিনগুলোয় বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, দলের পঞ্চম বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হন।…

  • |

    ইমতিয়াজ আলী

    ২৮ জুলাই, ১৯৫৪ তারিখে ত্রিনিদাদের মারাভাল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৭৬…

  • | | |

    ওয়ারেন বার্ডসলি

    ৬ ডিসেম্বর, ১৮৮২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নেভারটায়ার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ বামহাতি ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেছেন। কেবলমাত্র দুই স্বদেশী স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ও এএল হ্যাসেট তাঁর সংগৃহীত ৫৩টি প্রথম-শ্রেণীর শতককে…

  • |

    আলফন্সো রবার্টস

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সেন্ট জর্জেস অ্যাংলিকান স্কুল ও সেন্ট ভিনসেন্ট বয়েজ গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ক্রিকেট ও ফুটবলে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এভারটন উইকসের সুপারিশক্রমে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স রয়্যাল…

  • | |

    অরুণ লাল

    ১ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘পিগ্গি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। পিতা, কাকা, কাকাতো ভাই – সকলেই তাঁর পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।…