৯ মে, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ফুলহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সেন্ট পলস স্কুলে অধ্যয়ন করেন। সেখানেই তাঁর ক্রীড়ায় দক্ষতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়। রাগবি থ্রি-কোয়ার্টার অবস্থানে থাকতেন ও ক্রিকেট একাদশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৫ সালে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ১০৪.৪৪। পরবর্তী গ্রীষ্মে লর্ডসে অস্ট্রেলীয়দের বিপক্ষে পাবলিক স্কুলসের নেতৃত্ব দেন। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক এইচ. এল. কলিন্স পনেরোজন খেলোয়াড়ের ফিল্ডিংয়ের বিষয়ে আপত্তি জানালে চারজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে মাঠের বাইরে চলে যান। সৌভাগ্যবশতঃ কলিন্স তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে অনুপযোগী পিচ থেকে তিনি ৩১ রান তুলেছিলেন।
১৯২৭ সালে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালে অনেকেরই ধারনা ছিল যে, তিনি হয়তোবা প্রথম একাদশে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবেন। কিন্তু, কিছু কারণে তিনি ব্যর্থ হন ও ঐ বছর ব্লু লাভ করতে পারেননি। এক পর্যায়ে পরের মৌসুমের শুরুতে আবারও এর পুণরাবৃত্তি ঘটার মুখোমুখি হয়। তবে, মিডলসেক্সের সদস্যরূপে এসেক্সের বিপক্ষে ৮২ রানের ইনিংস খেলার সুবাদে আবারও যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হন। এ সুযোগ দু’হাত ভরে গ্রহণ করেন। ওভালে সারে বোলারদের এক হাত নেন ও ১০০ রান তুলেন এবং হোভে সাসেক্সের বিপক্ষে ১৬১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, লর্ডসে কেমব্রিজ বনাম এমসিসি’র খেলায় শতক হাঁকানোসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় ৭৪ ও ২০ রানের ইনিংস খেলেন।
পরবর্তীকালে ‘দ্য রেভারেন্ড টমাস কিলিক’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৩১ সালে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ২০৬ রান তুলে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তের সাথে জড়িত হন। উদ্বোধনী জুটিতে জি. টি. এস. স্টিভেন্সের সাথে ২৭৭ রান তুলেন। বিস্ময়করভাবে ঐ মৌসুমে কাউন্টি দলটির পক্ষে এটিই তাঁর একমাত্র খেলায় অংশগ্রহণ ছিল।
১৯২৯ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ১৯২৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কেএস দিলীপসিংজী’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩১ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৯ জুন, ১৯২৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮ মে, ১৯৫৩ তারিখে নর্দাম্পটনে মাত্র ৪৬ বছর ৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সেন্ট অ্যালবান্স ও কভেন্ট্রি’র মধ্যকার খেলা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।
