| |

মারে বিসেট

চিত্র – মারে বিসেট
নাম মারে বিসেট
ইংরেজ নাম Murray Bisset
পূর্ণাঙ্গ নাম মারে বিসেট
অন্য নাম এম বিসেট, স্যার মারে বিসেট
পদবী নাইট
জন্ম ১৪ এপ্রিল, ১৮৭৬
পোর্ট এলিজাবেথ, কেপ প্রভিন্স
মৃত্যু ২৪ অক্টোবর, ১৯৩১
সলসবারি, রোডেশিয়া
উচ্চতা
পরিবার গ্লেডিজ ভায়োলেট ডিফোর্ড (স্ত্রী)
আর্চিবল্ড হ্যামিল্টন মারে (পুত্র)
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ব্যাটিং ডানহাতি
বোলিং স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ফিল্ডিং উইকেট-রক্ষক
ভূমিকা উইকেট-রক্ষক, অধিনায়ক
আন্তর্জাতিক দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল
(১৮৯৯ – ১৯১০)
টেস্ট ক্যাপ ৩৯
প্রথম টেস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা ব ইংল্যান্ড
জোহানেসবার্গ, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯
শেষ টেস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা ব ইংল্যান্ড
কেপটাউন, ১১ মার্চ, ১৯১০
ঘরোয়া দল ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স

১৪ এপ্রিল, ১৮৭৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংসহ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনেকগুলো বছর দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৮৯৯ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে উভয়টিতেই পরাজিত হয় তাঁর দল। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হাওয়ার্ড ফ্রান্সিস, রবার্ট গ্রাহাম, রবার্ট ডোয়ার, ভিনসেন্ট ট্যানক্রেড ও উইলিয়াম সলোমনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেকেই তিনি অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। মাত্র ২২ বছর ৩০৬ দিন বয়সে দলকে পরিচালনা করেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার কনিষ্ঠ অধিনায়কের মর্যাদা পান। অর্ধ-শতাব্দীকাল তাঁর এ রেকর্ড টিকে থাকে ও ১৯৫৭ সালে ভেঙ্গে যায়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩৫ ও ২১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচের সাথে নিজেকে জড়ান। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩২ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা পিছিয়ে পড়ে।

১৯০১ সালে ইংল্যান্ড সফরেও দলের নেতৃত্বে থাকেন। তবে, ঐ সফরে কোন টেস্টের আয়োজন করা হয়নি। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আইন ও রাজনৈতিক জগতে প্রবেশ করেন। পাশাপাশি, ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন। টেস্ট অভিষেকের এগারো বছর পর পুণরায় দলে যুক্ত হন।

১৯০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ২৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৯ উইকেটে পরাজিত হলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর, ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে আইনপেশায় জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৪ সালে সাউথ আফ্রিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনসভায় নির্বাচিত হন। ১৯২৪ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। ১৯২৮ সালে কমনওয়েলথে সেবা প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাইট পদবী লাভ করেন।

বোয়ের যুদ্ধে অংশ নেন। সেখানে ক্রিকেটার্স কোর নামের দল গঠন করেন। বিংশ শতাব্দী প্রথমার্ধ্বে কেপটাউনের প্রথিতযশা আইনজীবীদের অন্যতম ছিলেন। এক পর্যায়ে সাউদার্ন রোডেশিয়ার প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। দুইবার সাউদার্ন রোডেশিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নর ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২৯ এপ্রিল, ১৯০৫ তারিখে গ্লেডিজ ভায়োলেট ডিফোর্ড নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির আর্চিবল্ড হ্যামিল্টন মারে নামীয় পুত্র সন্তান ছিল। ২৪ অক্টোবর, ১৯৩১ তারিখে রোডেশিয়ার সলসবারিতে ৫৫ বছর ১৯৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন সলসবারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Similar Posts

  • |

    এনামুল হক, ১৯৮৬

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলা সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। লাফিয়ে ও মিতব্যয়ী বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের…

  • |

    মারনাস লাবুশেন

    ২২ জুন, ১৯৯৪ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটিয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম পেস কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৪ সালে অভিবাসনসূত্রে পরিবারের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ব্রিসবেনে চলে আসেন। ১১ বছর বয়সে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের ক্রিকেট জগতে…

  • |

    শুভাগত হোম

    ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, ঢাকা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বরিশাল…

  • |

    ডিগার রবার্টসন

    ৬ অক্টোবর, ১৮৬১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডেনিলিকুইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮৫ সালে…

  • | |

    রাকেশ শুক্লা

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে চমৎকার লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের…

  • | |

    মোহাম্মদ হাফিজ

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের সারগোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। পাকিস্তান দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেয়াসহ অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সচরাচর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কৌশলগতভাবে প্রয়োজনমাফিক রক্ষণাত্মক ঢংয়েও অগ্রসর হয়ে থাকেন। পাকিস্তান দলের অন্যতম অনুসঙ্গ তিনি। বেশ কয়েকবার বোলিং…