|

মাহমুদুল হাসান জয়

১৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ২০২০-এর দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন। ২০২০-২১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ড ‘এ’ বনাম বাংলাদেশ এমার্জিংয়ের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০২১ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করছেন। ২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০ ও ৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ইনিংস ও ৮ রানে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে সফরকারীরা।

২০২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৮ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১৩৭ ও ৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ২২০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে নাজমুল হোসেন শান্ত’র অধিনায়কত্বে নিজ দেশে শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। দলের অনেকের ন্যায় তিনিও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ২২ মার্চ, ২০২৪ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ১২ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপর, ৩০ মার্চ, ২০২৪ তারিখের চট্টগ্রাম টেস্টে ২১ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেন। ঐ টেস্টেও স্বাগতিকরা ১৯২ রানে পরাস্ত হবার পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজয়বরণ করে।

২০২৫ সালে নিজ দেশে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ৩৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ব্লেজিং মুজারাবানি’র দূর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের মুখোমুখি হন। ১১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত সফররত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪৭ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে ৩৪ ও ৬০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ২১৭ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • |

    অন্তাও ডি’সুজা

    ১৭ জানুয়ারি, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গোয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের শুরুরদিকের অন্যতম ফাস্ট বোলার। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    সেলিম মালিক

    ১৬ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারিতে আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে অংশ নিতেন। পাকিস্তানের অধিনায়কের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। সহজাত প্রকৃতির প্রতিভাবান ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। বর্ণাঢ্যময় চরিত্রের অধিকারী থেকে ব্যাটকে বেশ উঁচুতে তুলে ধরতেন। অফ-সাইডে স্কয়ার অঞ্চলে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।…

  • |

    ডুডলস ট্যাপস্কট

    ১৮ মার্চ, ১৮৯৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯১০-১১ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ‘ডুডলস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • |

    অশোক গন্দোত্রা

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে রিও ডি জেনেরিওতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিভাবান বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। পাঁচ ফুট পৌণে সাত ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। বামহাতি স্পিনার হিসেবে বলকে উভয়দিক দিয়েই বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ১৯৬৫-৬৬…

  • |

    সনি রামাদিন

    ১ মে, ১৯২৯ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট চার্লস ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের অমূল্য অফ-স্পিনার ছিলেন। জন্মসনদে তাঁর নামের প্রথমাংশ ছিল না। কেবলই ‘বয়’ নামে পরিচিত ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, কেবলমাত্র ‘সনি’ ডাকনামে…

  • |

    স্টুয়ার্ট থম্পসন

    ১৫ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে লন্ডনডেরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ৯ জুলাই, ২০১২ তারিখে ডাবলিনে সফরকারী আফগানিস্তানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক…