| |

চেতন শর্মা

৩ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ভারতীয় ক্রিকেটার যশপাল শর্মা সম্পর্কে তাঁর কাকা। শীর্ণকায় মজবুত গড়নের ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ভারতীয় ক্রিকেটে ‘লিটল হারিকেন’ নামে পরিচিতি পান। হরিয়াণা হারিকেন নামে পরিচিতি পাওয়া কপিল দেবের জন্মভূমি থেকে তাঁর আবির্ভাব। কপিল দেবের সাথে বল হাতে জুটি গড়েন। লক্ষ্যে পৌঁছার পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যাট হাতে নিয়েও বিরাট ভূমিকা রাখতেন। এক পর্যায়ে অল-রাউন্ডারের দোরগোড়ায় অবস্থান করলেও পরবর্তীতে আর তা ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট ও ৬৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে জামশেদপুরে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১৮ বছর বয়সে ১৭ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে মোহসিন খানকে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। টেস্টে নিয়মিতভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে না পারলেও মনেপ্রাণে খেলতেন।

কলম্বো ও এজবাস্টনে পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও, ১৯৮৬ সালে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ৫/৬৪ নিয়ে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের সাথে যুক্ত থাকেন। ঐ সিরিজে দুই টেস্ট থেকে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন।

দিল্লিতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫/৫৫ পান। এরফলে, মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া ভারত দলকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন। এছাড়াও, অ্যাডিলেডে নাইট-ওয়াচম্যান হিসেবে প্রায় দুই ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৫৪ রান তুলেছিলেন।

ওডিআইয়েও বেশ সফল ছিলেন। রিলায়েন্স বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারতের পক্ষে প্রথম হ্যাট্রিক লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমের ত্রি-দেশীয় বেনসন এন্ড হেজেস প্রতিযোগিতায় রিচার্ড হ্যাডলি’র এক ওভার থেকে ১৬ রান তুলে নেন। এরপর, ব্যাট হাতে আবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রুখে দাড়িয়ে চূড়ান্ত খেলায় দলকে নিয়ে যান। পাশাপাশি এমআরএফ ওয়ার্ল্ড সিরিজ কাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মারকুটে ব্যাটিং করে বিস্ময়করভাবে শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

তবে, ১৯৮৯ সাল থেকে তাঁর খেলায় অবনতি ঘটতে শুরু করেন। টেস্ট দল থেকে স্থানচ্যূত হন ও নবীনদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তাসত্ত্বেও দল নির্বাচকমণ্ডলীর সুনজরে ছিলেন।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে দিলীপ বেঙ্গসরকারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২৮ এপ্রিল, ১৯৮৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ৬ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/১০০ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর কয়েকটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তবে, ১৯৯৪ সালে স্টিফেন ফ্লেমিং ও অ্যাডাম প্যারোরে তাঁর এক ওভার থেকে ২৩ রান তুলে নিলে বিদেয় ঘণ্টা বেজে উঠে। সব মিলিয়ে ২৩ টেস্ট ও ৬৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে বেশ সাফল্য পেলেও নাভী বরাবর উঁচু ফুল টস বলে জাভেদ মিয়াঁদাদ ছক্কা হাঁকালে তাঁর কৃতিত্ব অনেকাংশেই ম্লান হয়ে পড়ে।

১৯৯৩ সালে হরিয়াণা থেকে বাংলা দলে চলে যান। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে খেলোয়াড়ী জীবন করার পূর্ব-পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। ১২১ খেলা থেকে ৪৩৩ উইকেট লাভের মধ্য দিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটান। এছাড়াও, ১৫ বছরব্যাপী খেলোয়াড়ী জীবনে ৩ শতক সহযোগে ৩৫.০৩ গড়ে ৩৭১৪ রান পেয়েছেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফরিদাবাদ নির্বাচনী এলাকা থেকে বহুজন সমাজ পার্টির পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

Similar Posts

  • |

    অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ান

    ৩০ এপ্রিল, ১৯৯৩ তারিখে লন্ডনডেরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর বয়স থেকেই ক্রিকেটের সাথে যুক্ত রয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে নর্থ ওয়েস্ট ওয়ারিয়র্সের…

  • |

    দিনেশ রামদিন

    ১৩ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে ত্রিনিদাদের কুভা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। শুরু থেকেই প্রকৃত মানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোন সন্দেহের সৃষ্টি হয়নি। এমনকি, অভিষেকের পর থেকে…

  • | | |

    এভারটন উইকস

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে বার্বাডোসের পিকউইক গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সেন্ট লিওনার্ডস বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে, হোটেল ম্যানেজম্যান্ট বিষয়ে পড়াশুনো করেছেন। তবে,…

  • | |

    জিম পার্কস, ১৯৩১

    ২১ অক্টোবর, ১৯৩১ তারিখে সাসেক্সের হেওয়ার্ডস হিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আসক্তি গড়ে উঠে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে সর্বাপেক্ষা সদস্যের মর্যাদা পান। তাঁর পরিবারের সাথে সাসেক্সের সম্পর্ক ১৯২৪…

  • | |

    স্টুয়ার্ট কার্লাইল

    ১০ মে, ১৯৭২ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অত্যন্ত দক্ষ ও কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ…

  • |

    জর্জ ফ্রান্সিস

    ১১ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে বার্বাডোসের ট্রেন্টস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জন্ম নিবন্ধন বহিতে তাঁকে ‘জন নাথানিয়েল ফ্রান্সিস’ নামে পরিচিতি ঘটানো হয়েছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে…