| |

এমএস ধোনি

৭ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে বিহারের রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেট খেলেছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী এমএস ধোনি ‘এমএস’, ‘মাহি’, ‘এমএসডি’, ‘থালা’, ‘ক্যাপ্টেন কুল’ প্রভূতঃ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। হিন্দু রাজপুত পরিবারে তাঁর জন্ম। উত্তরাখণ্ডের আলমোরা জেলার লামগারা ব্লকের ললি গ্রামে তাঁর পরিবার বাস করেন। তাঁর পিতা পান সিং মিকনে কনিষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পদে কাজ করতেন। জয়ন্তী গুপ্তা নাম্নী এক বোন ও নরেন্দ্র সিং ধোনি নামীয় ভ্রাতা রয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পূর্বাঞ্চল, ঝাড়খণ্ড ও বিহার দলের পক্ষে খেলেছেন। এছাড়াও, এশিয়া একাদশ, ব্র্যাডম্যান একাদশ, চেন্নাই সুপার কিংস, রাইজিং জুনে সুপারজায়ান্টসের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে চেন্নাই সুপার কিংসের নেতৃত্বে রয়েছেন।

ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের শুরু থেকেই চেন্নাই দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ২৬ বছর বয়সে ২০০৮ সালের আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে $১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রথম আসরে তিনিই সর্বাধিক দামী খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর অধিনায়কত্বে দলটি ২০১০, ২০১১ ও ২০১৮ সালের শিরোপা জয় করে। প্রত্যেক আসরেই একমাত্র দল হিসেবে প্লে-অফ থেকে খেলার যোগ্যতা লাভ করে। ২০১০ ও ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ শিরোপায় অংশ নেন।

দুই বছর চেন্নাইয়ের পাতানো খেলায় নিষেধাজ্ঞাজনিত অনুপস্থিতির কারণে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট দলের পক্ষে খেলেন। ২০১৬ সালের দলটির পক্ষে $১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে খেলেন। ঐ বছর দলের অধিনায়কত্ব করেন। তবে, পয়েন্ট তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করলে স্টিভ স্মিথকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের আসরে দলটিকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে গেলেও মুম্বইয়ের কাছে মাত্র ১ রানে পরাজিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে ৩৬ বছর বয়সে পুণরায় চেন্নাই সুপার কিংসে চলে যান। ২০১৯ সালে সিএসকে রেকর্ডসংখ্যক অষ্টমবার চূড়ান্ত খেলায় উপনীত হয়। তবে, পুণরুত্থান ঘটা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে নাটকীয়ভাবে পরাভূত হয়।

দেবাল সাহে কর্তৃক সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেড দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এটিই পেশাদারী ক্রিকেটে তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ ছিল। পেশাদারী ক্রিকেটে এটিই তাঁর প্রথম পদচারণ ছিল। চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের ফলে বিহার দলে খেলার সুযোগ পান। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ১৯ বছর বয়সে রঞ্জী ট্রফিতে বিহার দলের পক্ষে অভিষেক হয়। পূর্বেকার মৌসুমে বিহার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেন। ৫ খেলা ৭ ইনিংস থেকে ১৭৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সিকে নায়ড়ু ট্রফিতে পূর্বাঞ্চল অনূর্ধ্ব-১৯ কিংবা এমএ চিদাম্বরম ট্রফি ও বিনু মানকড় ট্রফিতে বাদ-বাকী ভারত দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পাননি। তিন বছর রঞ্জী ট্রফিতে খেলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার দীপ দাসগুপ্তা’র পরিবর্তে ইস্ট জোনের পক্ষে খেলেন। এ সময়েই নিজেকে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসেন।

মাঠ ও মাঠের বাইরে অগণিত স্বর্ণালী মুহূর্তের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ছক্কা হাঁকিয়ে দলের শিরোপা এনে দেন। ব্যাটিং অবস্থানে পরিবর্তন এনে যুবরাজ সিংয়ের পূর্বে ব্যাটিংয়ে নেমে অনেকটাই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। সময়ে সময়ে ভুল করলেও নিজের উপর কখনো আস্থা হারাননি। জয়-পরাজয়ে আনন্দ-বেদনার মুহূর্তেও সর্বদাই অটল স্থিরচিত্তের অধিকারী ছিলেন। এ সকল গুণাবলীর কারণে দল ও দেশ থেকে অনেকটাই ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হতে থাকেন। ২ এপ্রিল, ২০১১ তারিখে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা হাতে নিয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ চূড়ায় নিয়ে যান।

শুরুরদিকের বছরগুলোয় স্থানীয় ক্রিকেট জগতেই তাঁর আনাগোনা ছিল। প্রতিভা থাকা স্বত্ত্বেও তাঁর অবস্থানের কারণে এ যাত্রায় তাঁকে দুরূহ পথ অতিক্রম করতে হয়। ধীরে ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে গন্তব্য স্থলে এগুতে থাকেন। রেলওয়েজের পক্ষে রঞ্জী দলে যোগ দেন। খড়গপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভ্রমণকালীন টিকেট পরীক্ষক হিসেবে কাজ করতে থাকেন। অনেকটা আকস্মিকভাবে বিসিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ গবেষণা উন্নয়ন শাখার সদস্যদের আর্থিকভাবে দূর্বল প্রতিভাবানদের নজরে পড়েন। খুব শীঘ্রই তাঁকে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া সফরে ভারতের ‘এ’ দলের সদস্যরূপে যুক্ত করা হয়। এ সফরের পর সৌরভ গাঙ্গুলী ও রবি শাস্ত্রী’র মনোযোগের পাত্রে পরিণত হন। দূর্দান্ত আলোকচ্ছটা ঘটান ও মারকুটে আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় নিজেকে উপস্থাপিত করেন।

২০০০-এর দশকে ভারতের ওডিআই দলে উপযুক্ত উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের অভাব পরিলক্ষিত হয়। রাহুল দ্রাবিড়ের পর পার্থিব প্যাটেল ও দিনেশ কার্তিককে শূন্যতা পূরণে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু, দলের ভারসাম্য বজায় রাখা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ২০০৪-০৫ মৌসুমে ২৩ বছর বয়সে বাংলাদেশ গমনার্থে ভারত দলের প্রাথমিক তালিকায় তাঁকে রাখা হয়।

২০০৪ থেকে ২০১৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৯০ টেস্ট, ৩৫০টি ওডিআই ও ৯৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, শুরুটা তাঁর মোটেই সুবিধের হয়নি। ওডিআই অভিষেকে রান আউটে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এরপর উপর্যুপরী স্বল্প রান করেন। তাসত্ত্বেও অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী তাঁর উপর আস্থা রাখেন। নবীন খেলোয়াড়কে আরও সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিশাখাপত্তনমে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজস্ব ৫ম ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে মাত্র ১২৩ বল মোকাবেলা করে ১৪৮ রানের দূরন্ত ইনিংস উপহার দেন। এভাবেই ধোনি যুগের সূচনা ঘটে। ঐ বছর শেষ হবার পূর্বে জয়পুরে শ্রীলঙ্কার ২৯৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে অপরাজিত ১৮৩ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের দ্বার প্রশস্ত হয়। রান সংখ্যার দিক দিয়ে ওডিআইয়ে যে-কোন উইকেট-রক্ষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংগ্রহরূপে বিবেচিত হয়।

ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে দিনেশ কার্তিকের স্থলাভিষিক্ত হন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৪ বছর বয়সে ২ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্ট ইনিংসে ৩০ রান তুলে সর্বশেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

দ্বিতীয় টেস্টে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান। এ স্তরের ক্রিকেটেও আগ্রাসী ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। ৫১ বল মোকাবেলায় এ সাফল্য পান। নিজস্ব পঞ্চম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৮ রান করেন। ভারতীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে এ শতকটি দ্রুততম ও সামগ্রীকভাবে চতুর্থ। জানুয়ারি, ২০০৬ সালে ফয়সালাবাদে তাঁর এ শতকের কল্যাণে ভারত দল রক্ষা পায়। আরও একবার বড় ধরনের খেলায় নিজের দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। খুব শীঘ্রই দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। যে-কোন অবস্থানে থেকে প্রতিপক্ষীয় বোলারদের নাস্তানুবাদে এগিয়ে আসেন ও দক্ষতার সাথে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হন।

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। অবশ্য, ১ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে ২৫ বছর বয়সে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় শূন্য রানে বিদেয় নেয়। তবে, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণ ও সমসংখ্যক রান-আউট করার মাধ্যমে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

অভিজ্ঞতাহীন অবস্থাতেই পরের বছর তরুণ ভারতীয় দলের নেতৃত্ব পান। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে ২০০৭ থেকে ২০১৬ এবং টেস্ট ক্রিকেটে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। একবিংশ দশকের শুরুতে ভারত দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ে অপূর্ব ভূমিকা রাখেন। ২৬ বছর বয়সে ২০০৭ সালের প্রথম বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে কপিল দেবের পর ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে যে-কোন স্তরের বিশ্বকাপ বিজয়ে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

মাঠে অবস্থানকালে অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী ক্রিকেটারে পরিণত হন। ব্যাটিংকালে পিছনের পায়ে ভর রেখে কব্জীর মোচরে বল মোকাবেলা করে থাকেন। কিছুটা দেরীতে ব্যাট উঁচুতে নিয়ে অপরিসীম শক্তিমত্তা প্রয়োগ করেন। অনবদ্য চিন্তাশক্তির অধিকারী ছিলেন। শচীন তেন্ডুলকরকে শহীদ আফ্রিদি’র বিপক্ষে ওয়াইড বল করার পরামর্শ দেন ও পরের বলেই স্ট্যাম্পিং করেন। শচীন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড় ও সৌরভ গাঙ্গুলী’র ন্যায় জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের সুপারিশক্রমে রাহুল দ্রাবিড়ের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব লাভ করেন। এরপর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপ, ২০০৮ সালের সিবি সিরিজ, ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ বিজয়, ২০১০ সালের এশিয়া কাপ, ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট সিরিজ, ২০১৩ সালে ৩৩ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০১৬ সালে এশিয়া কাপ টি২০আইয়ের শিরোপা বিজয়ে দলকে নেতৃত্ব দেন।

এপ্রিল, ২০০৭ সাল থেকে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালের মধ্যে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ও আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতার বিরতিকাল মাত্র চার মাসের ছিল। ওডিআইয়ে ভারত দলের নেতৃত্বে থাকা রাহুল দ্রাবিড় টি২০আইয়ের জন্যে তরুণদের দায়িত্ব পালনের কথা বিবেচনায় আনেন। তিনি ভারতের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। অপরদিকে, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলী ও শচীন তেন্ডুলকর এ প্রতিযোগিতায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে এবং বীরেন্দ্র শেহবাগ, যুবরাজ সিং ও হরভজন সিংয়ের ন্যায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলটিতে ছিল তবে, খেলা সম্পর্কে দূরদর্শী চিন্তাধারা ও প্রচণ্ড চাপের মাঝেও নিজেকে সংযত রাখার কারণে তাঁকে দল পরিচালনার সুযোগ দেয়া হয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়ে ভারত দলের শুভসূচনা ঘটে। লীগ পর্বে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও দলটি জয় পায়। দলীয় ব্যবস্থাপক লালচাঁদ রাজপুতের মতে, নবনিযুক্ত অধিনায়ক হিসেবে তিনি চাপ নেননি, বরঞ্চ চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। সেমি-ফাইনালে তারকাসমৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়া দলকে পরাভূত করে ও চূড়ান্ত খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরের শিরোপা লাভ করে। এভাবেই ভারতীয় ক্রিকেটের স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।

২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অসাধারণ খেলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৯২ ও ৬৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ৩২০ রানে জয় পায় ও চার-টেস্টে নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

একই মৌসুমে ভারতীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৮ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, শচীন তেন্ডুলকরের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা অধিনায়ক হিসেবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে মতবিরোধ থাকতে পারে। তাসত্ত্বেও একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে আইসিসির বড় ধরনের তিনটি প্রতিযোগিতায় দলের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি দলকে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে নিয়ে যান। এছাড়াও, বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিনব্যাপী পরাজয়ের বৃত্ত থেকে দলকে বের হতে সাহায্য করেন। অধিকন্তু, অধিনায়ক, উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে খেলার নজির ক্রিকেটের ইতিহাসে নেই।

২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে দারুণ খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যাট হাতে নিয়ে ২২৪ রানের দ্বি-শতক হাঁকান। এছাড়াও, একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তাঁর ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর, ২ মার্চ, ২০১৩ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, চেতেশ্বর পুজারা’র অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩৫ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০১৩-১৪ মৌসুমে ভারতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৯তম ওভারে বোলিংকর্মে অগ্রসর হলে বিরাট কোহলি উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ত্রি-শতক স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৪ সালের শেষদিকে অনেকটা আগেভাগেই টেস্ট থেকে অবসর নেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টে অংশ নেন। আটটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে প্রথমবারের মতো ভারত দলকে এক নম্বর অবস্থানে নিয়ে যান। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়সহ অন্যান্য দলের বিপক্ষে সুন্দর ফলাফলের প্রেক্ষিতে ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো ভারত দল আইসিসি প্রণীত টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করে। নিজ দেশে আয়োজিত টেস্টে ভারতের প্রাধান্যে ভূমিকা রাখেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে ড্র করেন।

ভারতের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। দুইটি ভিন্ন ধরনের খেলায় দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে তরুণ ভারতীয় দলকে পরিচালনা করে শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরপর, ২০১১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ওডিআই বিশ্বকাপ বিজয়ে অংশ নেন। চূড়ান্ত খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯১ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। খেলায় ব্যবহৃত ব্যাটটি নিলামে ₹৭২ লক্ষ রূপীতে বিক্রয় করেন। সমূদয় অর্থ তাঁর স্ত্রী স্বাক্ষী রায়াতের পরিচালনায় অনাথ শিশুদের সংগঠন স্বাক্ষী রায়াত ফাউন্ডেশনে দান করেন। এছাড়াও, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান।

৩০ বছর বয়সে ২০১১ সালের বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পর তাঁর অধিনায়কত্ব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রমাগত পরাজয়ের কবলে পরে ভারত দল। এ সময় থেকেই তাঁর বাদ পড়ার কথা শুরু হতে থাকে। তাসত্ত্বেও, ২০১৩ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে চেন্নাইয়ের চিপকে অনুষ্ঠিত খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঝড়োগতিতে ২২৪ রান তুলে নিজ দেশে সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন ও খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেন। রান সংখ্যার দিক দিয়ে এটি ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। ৪-০ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে ধবল ধোলাই করে তাঁর দল। ২০১৭ সালে ভারতের অধিনায়কত্ব করা থেকে বাদ পড়েন। ৩৩১টি আন্তর্জাতিক খেলায় ভারতের নেতৃত্বে ছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক।

দৃশ্যতঃ অসম্ভব জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ক্রিজে অবস্থানে ভিত স্থাপনে তারকা খেলোয়াড়ের খ্যাতি লাভ করেন। ৫০ ঊর্ধ্ব গড়ে ও ৯০-এর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটে অবিসংবাদিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন। প্রথম ভারতীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে ৪০০০ টেস্ট রান তুলেন। ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে ৫০ ছক্কা হাঁকান। উইকেট-রক্ষক-অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক টেস্টে অংশগ্রহণের রেকর্ড গড়েন। টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে সম্মিলিতভাবে সর্বাধিকসংখ্যক ৩৩২টি খেলায় দলকে নেতৃত্ব দেন। ২৭ টেস্টে জয় তুলে নিয়ে ভারতের সফলতম অধিনায়ক হন। তবে, ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে বিদেশের মাটিতে সর্বাধিক ১৫ টেস্টে পরাজয়ের রেকর্ডের সাথেও তিনি যুক্ত হন। পাশাপাশি ব্যাপকসংখ্যক ডিসমিসালের সাথে জড়িয়ে রেখেও নিজের অবস্থানকে সমুন্নত রাখতে তৎপরতা দেখান। ২৯৪টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে ভারতীয় উইকেট-রক্ষকদের মধ্যে শীর্ষে নিয়ে যান। খেলোয়াড়ী জীবনে উইকেট-রক্ষকদের মধ্যে সর্বাধিক ৩৮টি স্ট্যাম্পিং করেন। ভারতীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে ৬টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে সৈয়দ কিরমানি’র সাথে যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখল করে আছেন। টেস্ট ও ওডিআইয়ের উভয়টিতেই উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অনেকগুলো রেকর্ড ধারন করে আছেন।

ভদ্রলোকের খেলা হিসেবে পরিচিত ক্রিকেট খেলায় ‘ক্রিকেটীয় প্রতীকে’ পরিণত হয়েছেন। বিভ্রান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ইয়ান বেলকে ক্রিজে ফিরিয়ে আনেন। এর খেসারত ঐ টেস্টে পরে ও পাশাপাশি দল ধবল ধোলাইয়ের শিকার হয়। ২০১৪-১৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝামাঝি সময়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদেয় জানান ও বিরাট কোহলি তাঁর স্থান দখল করেন। সর্বোপরী, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে রাঁচি শহরের পরিচিতি লাভে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রান-আউটের শিকার হন। এটিই তাঁর সর্বশেষ ওডিআই ছিল। ১৫ আগস্ট, ২০২০ তারিখে ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তর থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগজড়িত ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান ও লিখেন যে, ‘পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে আপনাদের ভালোবাসা ও সহায়তার জন্যে ধন্যবাদ।’

বিদ্যালয় জীবনে ফুটবলার ছিলেন। পরবর্তীতে, ভ্রমণকালীন টিকেট পরীক্ষক, ক্রিকেটার, সৈনিক ও ব্যবসায়ী হন। দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, পিছুটান না থাকা ও আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান তিনি। উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটিংকালে মাঝারিসারিতে ব্যাট হাতে নামেন। স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে ওডিআইয়ে দশ সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছে ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে সেরা সমাপ্তিকারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়াও দুইটি সরকারী পদ দখল করে আছেন। জাতীয় দলে অভিষেকের এক বছর পূর্বে ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত খড়গপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভ্রমণকালীন টিকেট পরীক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ক্রিকেটে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহনের লক্ষ্যে চাকুরী ছেড়ে দেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ একই বছরে ইন্ডিয়ান টেরিটরিয়াল আর্মি কর্তৃক সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবীতে ভূষিত হন। ২০১৯ সালে আগ্রা প্রশিক্ষণ শিবিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিমান থেকে পাঁচবার প্যারাস্যুটে লাফিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্যারাট্রুপার হন।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা রাজীব গান্ধী খেলরত্ন লাভ করেন। ২০০৯ সালে ২৮ বছর বয়সে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী ও ২০১৮ সালে ৩৭ বছর বয়সে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন।

২০০৮ ও ২০০৯ সালে আইসিসি’র বর্ষসেরা ওডিআই খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৬, ২০০৮, ২০০৯, ২০১১, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আইসিসি’র বিশ্ব ওডিআই একাদশে ঠাঁই পান। তন্মধ্যে, ২০০৯ ও ২০১১ থেকে ২০১৪ সালে ঐ একাদশের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৩ সালে আইসিসি’র বিশ্ব টেস্ট একাদশের সদস্য হন। ২০১১ সালে ক্যাস্ট্রল বর্ষসেরা ভারতীয় ক্রিকেটারের পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৬ সালে এমটিভি বর্ষসেরা যুব প্রতীক নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে এলজি পিপলস চয়েজ পুরস্কার পান। আগস্ট, ২০১১ সালে ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর জীবনীকে ঘিরে ২০১৬ সালে ‘এম.এস. ধোনি: দি আনটোল্ড স্টোরি’ শীর্ষক বলিউড চলচ্চিত্র দারুণভাবে ব্যবসা সফল হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ৪ জুলাই, ২০১০ তারিখে ডাভ জহর বিদ্যা মন্দিরের সহপাঠিনী স্বাক্ষী সিং রায়াত নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ তারিখে জিভা ধোনি নাম্নী এক কন্যা সন্তানের জনক হন।

Similar Posts

  • | | |

    এমএল জয়সীমা

    ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের সেকান্দারাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০-এর দশকে টাইগার পতৌদি, সেলিম দুরানি’র ন্যায় ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ ১০জন তারকা ক্রিকেটারের অন্যতম ছিলেন। তন্মধ্যে, টাইগার…

  • |

    শেন থমসন

    ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ওয়াইকাটোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও একই ধারা প্রবাহমান রাখতে সমর্থ হন। কিন্তু, দীর্ঘ…

  • |

    মোহাম্মদ নাঈম

    ২২ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা মেট্রোপলিটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বেক্সিমকো ঢাকা, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা, রংপুর র‍্যাঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন।…

  • | |

    বীরেন্দ্র শেহবাগ

    ২০ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • | |

    ঋষিকেশ কানিতকর

    ১৪ নভেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হেমন্ত কানিতকর ভারত ও মহারাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছেন। ভ্রাতা আদিত্য গল্ফ এবং বৌমা ও শ্যালিকা রাধিকা তুলপুলে টেনিস খেলোয়াড়…

  • |

    জন হেইস

    ১১ জানুয়ারি, ১৯২৭ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দলীয় সঙ্গীদের কাছ থেকে ‘হেব্যাগ’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…