|

কেশব মহারাজ

৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিনি। পিতা নাটালের পক্ষে উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। নর্থউড বয়েজ হাইয়ে পড়াশুনো করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে পেস বোলিং করতেন। পরবর্তী কয়েক মৌসুম অনুশীলন করে স্পিন বোলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন। মনেপ্রাণে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন ও ব্যাটসম্যানদেরকে খেলতে প্রলুদ্ধ করতেন। ইনিংসের যে-কোন পর্যায়ে বোলিং করে থাকেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কোয়াজুলু-নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাউথ আফ্রিকা একাডেমি ও ডলফিন্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ বছর বয়সে ২ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত কোয়াজুলু-নাটাল বনাম কেইয়ের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

এরপর, ২০০৯-১০ মৌসুমে ডলফিন্সে যোগ দেন। ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ মৌসুমে শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। ডলফিন্সের পক্ষে চমৎকার প্রথম-শ্রেণীর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রোটীয় দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

২০১৬ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে পার্থের ওয়াকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেকের পর থেকে সম্মুখসারির স্পিনার হিসেবে খেলছেন। চমৎকার খেলেন ও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া জাগান। ঐ খেলায় চার উইকেট পেয়েছিলেন। ৩/৫৬ ও ১/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, বাট হাতে নিয়ে ১৬ ও ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্কের বল থেকে ছক্কা হাঁকান। তবে, কাগিসো রাবাদা’র দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৬ মার্চ, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৯৪। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৭ ও ৬/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এপ্রিল, ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে ঘিরে ওডিআই দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ২৭ মে, ২০১৭ তারিখে সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। ঐ বছর ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক নবাগত পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ০/১০৭ ও ৪/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৯ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ২১১ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই বছর দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ডুনেডিন টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৮ উইকেটে জয়লাভ করে ও তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে ইমরান তাহিরের আধিপত্যে খুব কমই সাদা-বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মুস্তাফিজুর রহমানের চতুর্থ উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩/৯২ ও ৪/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডিন এলগারের অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৩৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মার্চ, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৯২ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৪৯২ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০১৯-২০ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১০ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে পুনেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৪৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭২ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৯৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ পর্যায়ে ভারতের প্রথম ইনিংসে এএম রাহানে’র প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০২১ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৬ ও ২/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে রহকিম কর্নওয়ালের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অপরাজিত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৬৫ ও ৭/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৯ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই সফরের ৮ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে খালেদ আহমেদের সপ্তম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২/৫৭ ও ৭/৪০ লাভ করেন। তাঁর অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৩৩২ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। এছাড়াও, এ সিরিজে ১০৮ রান সংগ্রহসহ ১৬ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২৪ সালে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ৭ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৪/৭৬ ও ৪/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে জোমেল ওয়ারিকানের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলী স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ২১ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৩৪ ও ৩/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে হাসান মাহমুদের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কাইল ভেরিনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৪ ও ৩/১৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রায়ান রিকেলটনের দূর্দান্ত দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভের পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৭/১০২ ও ২/৩৪ লাভ করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর দূর্দান্ত অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২২ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৯ ও ২/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্কো জানসেনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৪০৮ রানের বিশাল জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • |

    চার্লস রাইট

    ২৭ মে, ১৮৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হেয়ারউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। হেয়ারউডে জন্মগ্রহণ করলেও শিশুকালে পিতা-মাতার সাথে ওলেটন এলাকায় চলে যান। চার্টারহাউজে অধ্যয়ন করেন। এখানেই তাঁর মাঝে ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক – উভয় বিভাগেই প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১…

  • | |

    জো ট্রাভার্স

    ১০ জানুয়ারি, ১৮৭১ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ১৯০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    হেমাঙ্গ বাদানি

    ১৪ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মাঝারীসারিতে পরিচ্ছন্ন ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঠে সজীব ভূমিকায় অগ্রসর হতেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে বেশ কয়েকজন অল-রাউন্ডারের অন্যতম হিসেবে তাঁকে ভারত দলে…

  • | |

    পেলহাম ওয়ার্নার

    ২ অক্টোবর, ১৮৭৩ তারিখে ত্রিনিদাদের দ্য হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক, সাংবাদিক ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। চার্লস উইলিয়াম ওয়ার্নার, সিবি ও দ্বিতীয় পত্নী এলেন রোজা দম্পতির আঠারো সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। পিতা অনেকগুলো বছর…

  • | |

    এরিক রাসেল

    ৩ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে স্কটল্যান্ডের ডাম্বার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্কশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী এরিক রাসেল ধ্রুপদীশৈলীর দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতেন।…

  • |

    আলফন্সো রবার্টস

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সেন্ট জর্জেস অ্যাংলিকান স্কুল ও সেন্ট ভিনসেন্ট বয়েজ গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ক্রিকেট ও ফুটবলে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এভারটন উইকসের সুপারিশক্রমে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স রয়্যাল…