|

জন ট্রাইকোস

১৭ মে, ১৯৪৭ তারিখে মিশরের জাগাজিগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় নিখুঁত অফ-স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। পিতা-মাতা গ্রীক বংশোদ্ভূত ছিলেন ও ১৯৪৮ সালে রোডেশিয়ায় চলে আসেন। কায়রোর প্রায় ৫০ মাইল দূরবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় জাগাজিগ এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রোডেশিয়ায় শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মাঝে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত অল-রাউন্ডার ট্রেভর গডার্ডের কাছে থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রোডেশিয়া, রোডেশিয়া ‘বি’ ও ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। সমসাময়িক অনেকেই বিদেশে খেলতে গেলেও এরপর থেকে রোডেশিয়ার পক্ষে খেলতে থাকেন। ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ে দলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যের মর্যাদা পাবার পর বয়সের ভারে ন্যূহ হয়ে পড়লেও দলের সেরা অফ-স্পিনারসহ অন্যতম বিশ্বসেরা ক্রিকেটার ছিলেন। গালি অঞ্চলে ফিল্ডিংকালে তাঁর প্রতিক্রিয়ার গতি অনেক সময়েই অর্ধ-বয়সীদেরকে ম্লান করে দিতো। অনেক উইকেটের সন্ধান না পেলেও স্থিরলয়ে অফ-স্পিন বোলিং করতেন। মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রেখে ব্যাটসম্যানদের চাপের মুখে রাখতেন ও সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন।

১৯৭০ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে – উভয় দলের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ৩টি ও জিম্বাবুয়ের পক্ষে ৪টি টেস্টে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ের পক্ষে ২৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত খেলেছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যবাদ নীতির কারণে বিচ্ছিন্ন হবার পূর্বেকার সিরিজের শেষ তিন টেস্টে অংশ নেন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টে কিথ স্ট্যাকপোল ও ডগ ওয়াল্টার্সের উইকেট লাভ করেছিলেন। খেলায় তিনি ১/২৭ ও ২/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৫* রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ১২৯ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে স্বাধীন হলে ১৯৮২ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলেন। ১৯৮৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের প্রথম খেলায় অংশ নেন। ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ে দল টেস্ট মর্যাদার অধিকারী হলে পুণরায় দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ৪৫ বছর বয়সে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম চার টেস্টে অংশ নেন। খেলা থেকে ২২ বছর ২২২ দিন বয়স বিরতি নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। হারারেতে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণের গৌরবের অধিকারী হন। এ টেস্টে কেবলমাত্র তিনিই পূর্বে টেস্ট খেলায় অভিজ্ঞতালদ্ধ ছিলেন। উদ্বোধনী টেস্টে ৫০ ওভার বোলিং করে ৫/৮৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরফলে, প্রথম জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। শচীন তেন্ডুলকর, মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন, ভেঙ্কটাপতি রাজু, কপিল দেবমনোজ প্রভাকর তাঁর শিকারে পরিণত হন।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের পক্ষে অংশ নেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যালবারিতে অনুষ্ঠিত নিম্নমূখী রানের খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের বিজয়ের ন্যায় সেরা অঘটনের নেপথ্যে অবস্থান করে অন্যদের সাথে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। গ্রুপ পর্বের ঐ খেলায় দল মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে গেলেও ৯ রানের নাটকীয় জয় তুলে নেয়।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর আরও তিন টেস্ট খেলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমাপ্তি টানেন। এ মৌসুমে খেলার সুযোগ পেয়েও দলের সাথে পাকিস্তান সফরে গমন করেননি।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ডেভ হটনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ১৩ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। বিনোদ কাম্বলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৩ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয় তাঁর দল। খেলায় তিনি ৩/১৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯৭ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জিম্বাবুয়ে ছেড়ে চলে যান ও অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসবাস করছেন। সেখানে আইনী ব্যবস্থাপক ও পার্থভিত্তিক এমজেডআই রিসোর্সেস নামীয় প্রতিষ্ঠানের সাচিবিক দায়িত্বে রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। দুই কন্যা সন্তানের জনক। জ্যেষ্ঠা কন্যা ক্লো বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও পরিচালক। কনিষ্ঠা কন্যা ক্যাথরিন গীতিকার।

Similar Posts

  • |

    জন হজেস

    ১১ আগস্ট, ১৮৫৫ তারিখে লন্ডনের নাইটসব্রিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। বলকে সুইং করাতে পারতেন। এছাড়াও, উচ্চ গতিতে বলে সিম আনয়ণ করতেন। কিন্তু, বলে নিখুঁতভাব বজায় রাখতে পারতেন না। ফলশ্রুতিতে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ…

  • |

    চার্লস রাইট

    ২৭ মে, ১৮৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হেয়ারউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। হেয়ারউডে জন্মগ্রহণ করলেও শিশুকালে পিতা-মাতার সাথে ওলেটন এলাকায় চলে যান। চার্টারহাউজে অধ্যয়ন করেন। এখানেই তাঁর মাঝে ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক – উভয় বিভাগেই প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১…

  • |

    পম পম ফেলোস-স্মিথ

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পম পম’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মারকুটে ও হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। লেগ-সাইডে সুইপ আনয়ণেও বৈচিত্র্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইংরেজ পরিবেশে…

  • | |

    দিনেশ চণ্ডীমল

    ১৮ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে বালাপিটিয়ায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ তিনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে ছিলেন। আম্বালাঙ্গোদাভিত্তিক ধর্মসকা কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলা শিখতে শুরু করেন। বিদ্যালয় জীবনে ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান।…

  • |

    ইউনুস আহমেদ

    ২০ অক্টোবর, ১৯৪৭ তারিখে ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, লাহোর ও পাকিস্তান…

  • |

    সুজীবা ডি সিলভা

    ৭ অক্টোবর, ১৯৭৯ তারিখে বেরুওয়ালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০০০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতে সুইং বোলিং করে থাকেন। ২০০০ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ প্রিমিয়ার ট্রফি প্রতিযোগিতায় সকলের সমক্ষে তাঁর প্রতিভা উন্মোচিত হয়। এক মৌসুমে সর্বাধিক উইকেট লাভের নতুন লীগ…