| |

ব্রেন্ডন টেলর

৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

গ্রাহাম টেলর ও ডেবি টেলর দম্পতির সন্তান। শৈশবকাল থেকে ক্রিকেটে হাতেখড়ি লাভের পরবর্তী বছরগুলোয় নিজেকে জিম্বাবুয়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের পর্যায়ে উপনীত করেন। দলের সঙ্কটময় মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়েন, অনেকগুলো খেলা প্রায় একাকীই অসম্ভব দৃঢতা ও সাহসিকতার সাথে সামলে নিয়েছেন। পরিসংখ্যানগতভাবে আফ্রিকার ছোট স্বাধীন দেশ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়ে আসছেন। ক্রিকেট বিশ্বের সর্বত্র স্বীয় প্রতিভাকে বিকশিত করে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ‘বি’ গ্রুপে ভারতের বিপক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। 

কিশোর অবস্থায় অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের পিতা ইয়ান ক্যাম্পবেলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। হারারের কাছাকাছি লিলফোর্ডিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে, হারারের সেন্ট জোন্স কলেজে পড়াশুনো করেন। জাতীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। দুইবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০২১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’, নর্দার্নস, মিডল্যান্ডস রাইনোস, র‌্যাঞ্জার্স, মিড ওয়েস্ট রাইনোস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, ওয়েলিংটন, বুস্ট ডিফেন্ডার্স, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস, বরিশাল বুলস, খুলনা টাইটান্স, চিটাগং কিংস, ক্যান্ডি তুস্কার্স, লাহোর কালান্দার্স, মুলতান সুলতান্স ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে ১৫ বছর বয়সে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। পরের বছর লোগান কাপের দ্বিতীয় বিভাগে ২০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

২০০৪ সাল থেকে ২০২১ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ৩৪ টেস্ট, ২০৫টি ওডিআই ও ৪৫টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার জন্যে জিম্বাবুয়ে দলের শীর্ষ ক্রিকেটার হিসেবে যুক্ত হন। বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহারের কারণে ১৮ বছর বয়সে খেলার সুযোগ পান ও সম্ভবতঃ অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত হন। ২০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। উপর্যুপরী চারটি খেলায় ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তবে, সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় ৭৪ রান তুলে স্বীয় প্রতিভার কথা জানান দেন।

৬ মে, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত একই দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অ্যালেস্টার মারেগেদে, এল্টন চিগুম্বুরা, প্রসপার উতসেয়া ও টিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯ ও ৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ইনিংস ও ২৪০ রানের ব্যবধানে তাঁর দল পরাভূত হয়েছিল। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

পরের মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে উপর্যুপরী অর্ধ-শতক হাঁকান। দৃশ্যতঃ এভাবেই ভবিষ্যতের তারকা খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর পথ চলার বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায়। খুব দ্রুত প্রতিপক্ষের কাছে ব্যাটসম্যান হিসেবে সমীহের পাত্রে পরিণত করেন ও এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে, উইকেটে থিতুকালীন বিদেয় হবার প্রবণতা ছিল। এছাড়াও ইনিংসের শুরুতে পায়ের জড়তার সমস্যাও ছিল। তবে, এরপর থেকে খেলায় উত্তরণ ঘটাতে থাকেন। পরবর্তী টেস্ট সিরিজগুলোয়ও স্বীয় স্থান ধরে রাখেন।

নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে অর্ধ-শতক হাঁকান। ২০০৪-০৫ মৌসুমে এসে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের মোড় ঘুরে যায়। পাকিস্তান সফরে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতরান তুলেন। এছাড়াও, ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটেও বেশ রান তুলতে থাকেন। মাঠের বাইরে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনায় ২০০৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করার বিষয়টি অনস্বীকার্য্য ছিল। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলী কয়েক মাস পরই পুণরায় টেস্ট দলে তাঁকে ফিরিয়ে আনে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে প্রায় সকল ওডিআইয়ে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলে স্বেচ্ছায় টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরত থাকাকালীন এ পর্যায়ের ক্রিকেটেই সর্বাধিক খেলেন। ২০০৮ সালে বোর্ডের সাথে আর্থিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার খেসারত গুণেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজসহ ফিরতি সিরিজে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে বাদ পড়েন। এক বছর দলের বাইরে থাকার ফলে ১৭টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন।

তৎকালীন অধিনায়ক টাটেন্ডা তাইবু’র সাময়িক প্রত্যাবর্তনের ফলে গ্লাভস হাতে উইকেট-রক্ষণে ফিরে যান। ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার কারণে উত্তরোত্তর নিজেকে সমৃদ্ধকরণে অগ্রসর হতে থাকেন। আগস্ট, ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে শেষ বলে ৫ রানের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় মাশরাফি বিন মর্তুজা’র বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বিস্ময়করভাবে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের সিরিজ জয়ে অবদান রাখেন।

১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে কেপটাউনে স্বীয় সক্ষমতার কথা আবারও তুলে ধরেন। ২০০৭ সালের আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় স্থিরলয়ে ৪৫ বল মোকাবেলান্তে অপরাজিত ৬০ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দলের পাঁচ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিন খেলায় অংশ নিয়ে ৮৭ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। ব্যাট হাতে ক্রমাগত সাফল্য লাভ করলেও শতরান করতে পারেননি। অবশেষে, নভেম্বর, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথমবারের মতো শতরানের সন্ধান পান। অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংসের মাধ্যমেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের পুণঃজন্ম ঘটে। তাসত্ত্বেও, বাংলাদেশ দল এক উইকেটের জয় পায়। প্রায়শঃই শুরুতে জড়তার কারণে সমালোচিত হতেন।

২০১০ সালের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ১৪৫ রানের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এরফলে, জিম্বাবুয়ের নবম খেলোয়াড় হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। এরপর ঐ বছরেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দূর্দান্ত শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে, ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের অসাধারণ ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ছয় খেলায় অংশ নিয়ে ২৮.৩৩ গড়ে ১৬৬/১৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রুপ পর্বের খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮০ রান তুলেন ও দৃশ্যতঃ জিম্বাবুয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যানে পরিণত করেন। এরপর, প্রথম জিম্বাবুয়ীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উপর্যুপরী ওডিআইয়ে শতরানের ইনিংস খেলেন। আয়ারল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে ঐ শতকগুলো হাঁকিয়েছিলেন। ৪৩৩ রান তুলে ঐ প্রতিযোগিতায় যে-কোন জিম্বাবুয়ীয়ের সাথে তুলনান্তে সর্বাধিক রান সংগ্রহের কৃতিত্বের অধিকারী হন।

অক্টোবর, ২০১১ সালে হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উপর্যুপরী দুই খেলায় ১২৮* ও ১০৭* রান তুলেন। তাসত্ত্বেও উভয় খেলায় স্বাগতিক দল পরাজয়বরণ করেছিল। তৃতীয় খেলায় ৬৫ বলে ৭৫ রান তুলে দলের ভিত গড়েন ও জিম্বাবুয়েকে তিন খেলা নিয়ে গড়া সিরিজে স্বান্তনাসূচক জয় এনে দেন। ওডিআই সিরিজটিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ও ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

পরবর্তীতে, নিজ দেশে বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজেও ব্যাটিংয়ে শীর্ষে ছিলেন। তন্মধ্যে, দুইটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। ২০১১-১২ মৌসুমে অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে জিম্বাবুয়ে দলকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৬ জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে নেপিয়ারে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৩০১ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

দীর্ঘাকায় গড়নের অধিকার নিয়ে সামনের পায়ে ভর রেখে কভার ড্রাইভে দক্ষতা দেখান। টি২০ ধাঁচের খেলায়ও সফলতা পেয়েছেন। ডিসেম্বর, ২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডের এইচআরভি টি২০ কাপে ওয়েলিংটনের বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। দলটি পয়েন্ট তালিকার তলানীতে অবস্থান করলেও তিনি ২০৭ রান তুলের দলের সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ও সামগ্রীকভাবে একাদশ স্থানে অবস্থান করেন। ২০১৩ বাংলাদেশের টি২০ লীগেও বিরাটভাবে সফল ছিলেন। $৩০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে চিটাগং কিংসের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। মাহমুদউল্লাহকে হটিয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় দলের সর্বাধিক ও সামগ্রীকভাবে তৃতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ফলশ্রুতিতে, ২০১৪ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে হায়দ্রাবাদের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

টেস্ট ক্রিকেটে পুণরায় প্রত্যাবর্তনকালেও তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা ধরে রাখেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর ২৪ জুন, ২০১১ তারিখে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব লাভ করেন। স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে জিম্বাবুয়ে দল ফিরে আসার পর ঐ বছরের শেষদিকে সফলতার সাথে টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেন। ৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেন। ১৭৬ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এরফলে, দ্বিতীয় জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটার হিসেবে অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম খেলাতেই শতরান করার গৌরব অর্জন করেন। এক মাস পর পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। স্বল্পসংখ্যক খেলার সময়সূচী ও বিদেশের মাটিতে হিমশিম খেলেও দৃশ্যতঃ জিম্বাবুয়ে দলকে পুণরুজ্জ্বীবিত করতে প্রয়াস চালান। দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠের বাইরে থেকে বকেয়া বেতনের বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন ও খেলোয়াড়দের সংস্থা গঠন করেন।

২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫০ ও ১১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ৩৪ রানে জয়লাভ করে।

অধিনায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালীন সর্বদাই নিজেকে সকলের ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে প্রয়াস চালান। ব্যাটিংয়ে বিস্ময়কর ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম সাত টেস্ট থেকে চারটি শতরান নিজ নামের পার্শ্বে যুক্ত করেন। অথচ, পূর্ববর্তী দশ টেস্টে তেমন কিছুই অবদান রাখেননি। এছাড়াও, ২০১৩ সালে হারারে টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে উভয় ইনিংসেই শতরান পেয়েছেন। এরফলে, জিম্বাবুয়ের প্রথম ও বৈশ্বিকভাবে দ্বাদশ ব্যাটসম্যান হিসেবে অনন্য রেকর্ড গড়েন। একই বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যান। তবে, দুই টেস্টে অংশ নিয়ে কেবলমাত্র ৩৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত টেস্ট ও ওডিআই দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। জুলাই, ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্তরভিত্তিক অধিনায়ক মনোনয়নের বিষয়ে অগ্রসর হয়। টেস্টে দলের নেতৃত্বে থাকলেও এলটন চিগুম্বুরাকে সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ পর্যায়ে মাঠে তেমন ক্ষীপ্রময়তা পরিলক্ষিত না হলেও উইকেট-রক্ষণে ঠিকই সঠিকভাবে অগ্রসর হচ্ছিলেন। পরবর্তীতে রিচমন্ড মুতুম্বামি ও রেজিস চাকাভাকে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্বে রাখা হলে পুরোপুরি ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ ঘটানোর দিকে নজর দেন। তবে, তাঁর ব্যাটিংয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গড়া ত্রি-দেশীয় সিরিজে সাধারণমানের খেলা উপহার দেন। এছাড়াও, বাংলাদেশের বিপক্ষেও তেমন ভালো খেলেননি।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে ২৯ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরফলে, লাখো লাখো জিম্বাবুয়ীয়ের মন ভেঙ্গে যায়। আর্থিক সঙ্কটের কারণেই জিম্বাবুয়ে ছেড়ে চলে যাবার কথা জানান। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চুক্তি ছিন্ন করেন ও অবসর গ্রহণ করেন। ১৩ মার্চ, ২০১৫ তারিখে কোলপ্যাক খেলোয়াড় হিসেবে নটিংহ্যামশায়ারে যোগ দেন। এ বছরই নটিংহ্যামশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। তবে, এ অবসর স্বল্পকালীন ছিল। ২০১৭ সালে পুণরায় জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন। নভেম্বর, ২০১৮ সালে প্রথম জিম্বাবুয়ীয় হিসেবে দুইবার টেস্টের উভয় ইনিংসে শতক হাঁকানোর গৌরবের অধিকারী হন।

জিম্বাবুয়ীয় আপোষবিরোধী কোচ স্টিফেন ম্যাঙ্গোঙ্গো’র সাথে তাঁকেও দলের বাইরে রাখা হয়। প্রথমে, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট থেকে দলের নিয়মিত অবকাঠামো সংস্কার ও দলীয় নেতৃত্বে এলটন চিগুম্বুরাকে সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেয়ার লক্ষ্যে জুলাই, ২০১৩ সালে অধিনায়কত্ব থেকে বিরত রাখা হয়। স্টিফেন ম্যাঙ্গোঙ্গো’র ‘উইকেট-রক্ষণে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে খেলবেন, খণ্ডকালীন নয়’ বক্তব্যের আলোকে উইকেট-রক্ষণ থেকে তাঁকে বিতাড়িত করা হয়। অবশেষে, এ ধরনের প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়ে আগস্ট, ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দল থেকে বাদ পড়েন।

টেস্ট ক্রিকেটে স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে জিম্বাবুয়ে দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার পর কাইল জার্ভিসের সাথে দ্বিতীয় জিম্বাবুয়ীয় কোলপ্যাক খেলোয়াড় হন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। কোলপ্যাক চুক্তির আওতায় তিন বছর মেয়াদে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলেন। এরফলে, এ চুক্তির আলোকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে খেলার জন্যে অনুপযোগী হন। এ সিদ্ধান্তে কিছুটা খোলামেলা বক্তব্য দেন যে, কোন একদিন হয়তোবা দলে ফিরে আসবেন ও পরবর্তীতে তাই করেন।

‘আমি জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ও প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে অবগত ছিলাম। আমি লক্ষ্য করেছি যে, আনুষ্ঠানিকভাবে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট পরিচালনায় যোগ্যতাবিহীন লোকের অংশগ্রহণ রয়েছে ও খেলোয়াড়েরাও সেভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের সমস্যা নিয়ে কারও পক্ষে সেরা খেলা উপহার দেয়ার একেবারেই অসম্ভব।’

নটসে থাকাকালীন চূড়ান্ত মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে ব্যক্তিগত কারণে ও পারস্পরিক সমঝোতায় দেশে প্রত্যাবর্তনের ফলে অনেকেই সন্দীহান ছিলেন যে আর হয়তো খেলবেন না। তবে, স্ত্রী কেলি অ্যান রিডিং ও চার শিশুপুত্রের নিঃসঙ্গতায় আগেভাগেই অনুমোদন পান। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের বিষয়ে মাঠ ও মাঠের বাইরে সরব ছিলেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ৩১ বছর বয়সে পুণরায় টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসেন। প্রায় তিন বছর বাদে বুলাওয়েতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অংশ নেন। এছাড়াও, গ্লোবাল টি২০ লীগ প্রতিযোগিতায় স্টেলেনবশ কিংসের সাথে যুক্ত হন।

নটিংহ্যামশায়ারের ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের প্রথম দুই খেলায় শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। লাফবোরা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিডলসেক্সের বিপক্ষে এ সফলতা পান। তাঁর অন্তর্ভুক্তির ফলে মাঝারিসারিতে দলের ভিত্তি শক্ত হয়। নটিংহ্যামশায়ারের ৬৩২ নম্বর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। নটিংহ্যামশায়ারে চলে গেলেও তা সবমিলিয়ে সহজভাবে এগুচ্ছিল না। চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ধারাবাহিকতাহীন খেলছেন। এছাড়াও, ২০১৫ সালের রয়্যাল লন্ডন কাপের সেমি-ফাইনালে দলের জয় উদযাপনের পর দরজা খোলা রেখে গাড়ীতে ঘুমিয়ে পড়েন। নটিংহামের জনৈক ব্যবসায়ী এ অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেন। জরিমানা প্রদান করে মুক্তি পান। তবে, ঐ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় জয়ের পদক ঠিকই গলায় ঝুলিয়েছিলেন। নটসের পক্ষে ৩৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ছয়টি শতরানের ইনিংস খেলেন। সর্বোচ্চ ১৫২ রান তুলেন। এছাড়াও, লিস্ট-এ ক্রিকেটে ২৩ খেলায় ৬৬১ রান তুলেন। সর্বোচ্চ ১৫৪ রান করেন।

২০১৭ সালে আউটলজ ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্ল্যাস্ট ও রয়্যাল লন্ডন ওয়ান-ডে কাপের ন্যায় সাদা-বলের ক্রিকেটের দ্বৈত শিরোপা লাভে প্রধান ভূমিকা রাখেন। তন্মধ্যে, ৫০-ওভার প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনালে সমারসেটের বিপক্ষে দূর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। টি২০ খেলায় ৩৫১ রান তুলেন। তন্মধ্যে, সমিত প্যাটেলকে নিয়ে ফাইনালস ডেতে ১৩২ রানের জুটি গড়েন। বার্মিংহাম বিয়ার্সের বিপক্ষে ঐ খেলায় তিনি ৬৫ রান তুলেছিলেন।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ৭২.১৬ গড়ে রেকর্ডসংখ্যক ৪৩৩ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিয়ে যান। প্রতিযোগিতার চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এছাড়াও, ওয়েলিংটন ক্রিকেট দলের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৫ মার্চ, ২০১৫ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নিজস্ব শেষ খেলায় মনোমুগ্ধকর শতরান করেন। জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ওডিআইয়ে চার শতক সহযোগে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

১২ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীতে আক্রান্ত হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ক্রেগ আরভিনের সাথে তাঁকেও টেস্ট সিরিজের বাইরে রাখা হয়।

২০২১ সালে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুলাই, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ৮১ ও ৯২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলায় তাঁর দল ২২০ রানে পরাজিত হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৭৩ রানে জয়লাভ করে।

Similar Posts

  • |

    এডওয়ার্ড ফন ডার মারউই

    ৯ নভেম্বর, ১৯০৩ তারিখে ট্রান্সভালের রাস্টেনবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে অপূর্ব ব্যাটিংশৈলীর স্বাক্ষর রাখতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সকল ধরনের খেলাধূলায় নিজেকে যুক্ত…

  • | |

    ফয়সাল ইকবাল

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৮১ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। রক্ষণাত্মক জ্ঞান নিয়ে সাহসী স্ট্রোক খেলোয়াড় হিসেবে ফয়সাল ইকবালের সুনাম ছিল। সামগ্রীকভাবে তিনি পাকিস্তানের মাঝারিসারিতে বেশ ভালো খেলা উপহার দিতেন। কিশোর পর্যায়ের…

  • | |

    শোয়েব মালিক

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী মৃদুভাষী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খাঁটি মানসম্পন্ন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। সকল ক্ষেত্রেই পারদর্শী হলেও কোনটিতেই প্রভূত্ব দেখাতে পারেননি। প্রায় দুই দশক খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    শাব্বির আহমেদ

    ২১ এপ্রিল, ১৯৭৬ তারিখে পাঞ্জাবের খানেওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ছিলেন। অন্যান্য পাকিস্তানী ফাস্ট বোলারের তুলনায় তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রাণহীন উইকেটেও সজীব বোলিং করতেন। স্ট্যাম্পের…

  • | | |

    জেমস লিলিহোয়াইট

    ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪২ তারিখে সাসেক্সের ওয়েস্টহাম্পনেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। জন লিলিহোয়াইট নামীয় রাজমিস্ত্রির সন্তান ছিলেন। গুডউড পার্কে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন ও সেখানকার স্থানীয় ক্লাবে…

  • | | |

    জ্যাকি হেনড্রিক্স

    ২১ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে জ্যামাইকার সেন্ট অ্যান্ড্রু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়ন ও আমুদে প্রকৃতির অধিকারী ছিলেন। দারুণ উইকেট-রক্ষক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই তাঁকে…